বাংলা বললেই জেল? খগেন-সুকান্তরা বাইরে কেন? ‘২৯-এ খেলা শেষ’, মালদায় BJP-র বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:০০: ২০২৯-এর ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়ে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকেই মোদী-শাহকে চ্যালেঞ্জ জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার মালদার জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাফ জানিয়ে দিলেন, “ক্ষমতা থাকলে ১০ কোটি বাঙালিকে জেলে ভরে দেখান।” বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘ভোট বন্দি’র অভিযোগ, একাধিক ইস্যুতে সুর চড়ালেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মালদার জনসভা থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার অধিকার- একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন তিনি। পাশাপাশি চড়া সুরে ঘোষণা করলেন, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই বিজেপির রাজনৈতিক অধ্যায় সমাপ্ত হবে।
এদিনের সভায় অসমের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলা বললে তাকে জেলে ঢুকিয়ে দাও। ক্ষমতা থাকলে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদী ১০ কোটি বাঙালিকে জেলে ভরো। কত বড় বাপের ব্যাটা, দেখি।’’ বিজেপির রাজ্য নেতাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একই যাত্রায় পৃথক ফল কেন হবে? খগেন মুর্মু, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীরাও তো বাংলায় কথা বলেন। তাঁরা কেন জেলে যাবেন না?’’
‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, ‘‘আমরা জয় বাংলা বললে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়। অথচ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা এসে যখন জয় বাংলা বলেন, তখন তিনি কি পাকিস্তানি বা বাংলাদেশি হয়ে যান না?’’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘SIR-এর মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম বাদ দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে। আগে ছিল নোট বন্দি, এখন শুরু হয়েছে ভোট বন্দি। মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এই আতঙ্কেই রাজ্যে ৬৫ জন মানুষ আত্মঘাতী হয়েছেন।’’
তবে সভামঞ্চ থেকেই তিনি অভয় দিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের সরকার আছে, ভয় কীসের? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ থাকলে কী হবে? ভয় পাচ্ছেন কেন?’’ তিনি মালদার সাংসদদের বিঁধতে গিয়ে বলেন, ‘‘একজন পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য এরা পার্লামেন্টে কথা বলেনি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠিও দেয়নি। যারা নিজের বুথ সভাপতিকে সুরক্ষা দিতে পারে না, তারা সাধারণ মানুষকে কী সুরক্ষা দেবে?’’
বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক করে অভিষেক বলেন, ‘‘বিহারে মানুষকে ভাগ করে বিজেপি জিতেছে, কিন্তু বাংলায় সেটা হতে দেব না। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, তিনি সব প্রাণীর মধ্যেই বিরাজমান। অথচ এই বাংলায় গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক মুসলিম প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।’’
জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এবারের ভোট কাউকে নির্বাচিত করার জন্য নয়, এবারের ভোট শাস্তি দেওয়ার জন্য (Vote to Punish)। ১৫০০ রাজনৈতিক দলের মধ্যে একমাত্র তৃণমূলই বিজেপিকে শিক্ষা দিতে পারে। মনে রাখবেন, আর মাত্র তিন বছর। ২০২৯-এ এদের খেলা শেষ, গল্প শেষ। পদ্মফুল এবার উপড়ে ফেলা হবে।’’
মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপচারিতা এবং জনসভায় অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিল, চব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে এবং বিজেপিকে (BJP) এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন হুমায়ুনের নাম মুখে না আনলেও তাঁর পুরনো বিজেপি-যোগ নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি অভিষেক। তাঁর কথায়, “কয়েকটি দল বিজেপির সঙ্গে ডিল (বোঝাপড়া) করেছে। আপনারা সবটা জানতে পারবেন। ২০১৯ সালে এক জন বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। এখন তিনি বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন। মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা তুলছেন।”
গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল আটটি এবং বিজেপির চারটি। সেই ফলের প্রসঙ্গ টেনেই অভিষেক বলেন, “২০২১ সালে আপনারা বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া আটকে দিয়েছিলেন। ভোটে হেরে ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা আবার দিল্লি পালিয়ে গিয়েছিল।”
কংগ্রেসের নাম না করে তাদের সঙ্গে তৃণমূলের তফাত বোঝাতে গিয়ে অভিষেক মন্তব্য করেন, “অন্য দল বিজেপির কাছে হারে। আর এই বিজেপি তৃণমূলের কাছে হারে।” এরপর বিহার নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে তিনি যোগ করেন, “মানুষ একজোট থাকলে বিজেপি ভেঙে যায়। আর মানুষ বিভক্ত হলে বিজেপি জিতে যায়। যেমনটা বিহারে দেখা গিয়েছে।”
পাশাপাশি, মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তিনি। অভিষেক বলেন, “তেলঙ্গানা, কর্নাটকে তো কংগ্রেস সরকার! সেখানেও আমাদের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী তার জন্য ক’টা চিঠি লিখেছেন? কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?”