আমেরিকায় বন্দি মাদুরো, মৌখিক প্রতিবাদই সার রাশিয়া-চীনের, নেপথ্যে কী কারণ?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৪৫: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolás Maduro) রাজধানী কারাকাস থেকে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স তুলে নিয়ে গেলেও, তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া (Russia) ও চীন (China)। আমেরিকার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মস্কো ও বেজিং মৌখিক নিন্দা জানালেও, ওয়াশিংটনকে (Washington) চাপে ফেলার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ তারা করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতার পেছনে রয়েছে দুই মহাশক্তির নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশল।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত প্রায় চার বছর ধরে বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার (United States) বিরুদ্ধে নতুন করে ভেনেজুয়েলায় ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ খোলার ঝুঁকি নিতে চাননি ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। বরং মাদুরোকে আটকের এই ঘটনা ভবিষ্যতে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে মস্কোকে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চীন সবসময়েই সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার নীতিতে বিশ্বাসী। তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার অবস্থান নরম করা এবং ভবিষ্যতে তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের সময় আমেরিকার অনুরূপ ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিশ্চিত করতেই শি জিনপিং প্রশাসন এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পালাবদলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডের (ওভিএল) বড়সড় লাভের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়া এবং ফের তেল আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে ভারতের সামনে।
মাদুরো অপহরণের পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ প্রথমে আমেরিকার বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা হুমকির পর সুর নরম করেছেন। তিনি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছেন। সস্ত্রীক মাদুরোকে শীঘ্রই আমেরিকার আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।