ভারতীয় পরিচয়ে যোগীর রাজ্যে স্কুলে শিক্ষকতা, পুলিশের জালে পাক মহিলা! গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহ?

January 8, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:২৫: নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দিয়ে দিব্যি সরকারি স্কুলে চাকরি করছিলেন এক পাকিস্তানি মহিলা। দীর্ঘ চার দশক ধরে ভারতে বসবাস করার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) রামপুরের এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের অন্তর্তদন্তে ওই মহিলার আসল পরিচয় ফাঁস হতেই প্রশ্ন উঠছে, নিছকই জালিয়াতি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনও গুপ্তচরবৃত্তির ছক?

অভিযুক্ত মহিলার নাম মাহিরা আখতার ওরফে ফরজানা। পুলিশ সূত্রে খবর, রামপুরের কুমারিয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন তিনি। সম্প্রতি যোগীরাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের রুটিন অন্তর্তদন্তে তাঁর নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে কেউটে। জানা যায়, শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ওই মহিলা আসলে পাকিস্তানের নাগরিক!

তদন্তে উঠে এসেছে এক দীর্ঘ ইতিহাসের কথা। পুলিশ জানিয়েছে, মাহিরা জন্মসূত্রে ভারতীয় হলেও ১৯৭৯ সালে এক পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করে তিনি ওদেশে চলে যান এবং পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাঁর। এরপর ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়েই ভারতে ফিরে আসেন মাহিরা। রামপুরের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে এখানেই থেকে যান। অভিযোগ, এরপরই ভুয়ো নথি তৈরি করে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করেন এবং শিক্ষিকার চাকরি বাগিয়ে নেন।

প্রায় ৪০ বছর ধরে পাকিস্তানি নাগরিক হয়েও কীভাবে প্রশাসনের চোখের আড়ালে তিনি ভারতে বসবাস ও সরকারি চাকরি করছিলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা দপ্তর প্রথমে তাঁকে সাসপেন্ড এবং পরে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে ওই মহিলার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তাঁর এই দীর্ঘ বসবাসের পিছনে পাকিস্তানের কোনও গুপ্তচর সংস্থার হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen