নথি চুরিতে ‘অভিযুক্ত’ ইডি কর্তাদের চিহ্নিত করতে প্রতীকের বাড়ি থেকে ফুটেজ সংগ্রহ পুলিশের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩:৫০: প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যারকের অফিস থেকে নথি চুরিতে ‘অভিযুক্ত’ ইডি আধিকারিকদের শনাক্তকরণ শুরু করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পরেই তদন্তে তৎপর কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানা ও সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুক্রবার প্রতীকের বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। শনিবার শুরু হয়েছে বয়ান সংগ্রহের কাজও। এই ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ কথা বলছে। প্রতীক জৈনের বাড়ির পরিচারিকা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও বয়ান পুলিশের তরফে রেকর্ড করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, শনাক্তকরণের পর ‘অভিযুক্ত’দের নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া পুলিশ শুরু করবে বলেই খবর।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার ভোরে। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ইডির দু’টি দল একযোগে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে (I-PAC Office Raid) পৌঁছয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ, তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সকাল ৯টা নাগাদ প্রথমে থানার এক সার্জেন্ট গেলে তাঁকে বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। এর পরে ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় ঘটনাস্থলে গেলেও তিনিও ভিতরে ঢুকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা সেখানে পৌঁছন। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে লাউডন স্ট্রিটে যান।
অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি থেকে নথি, ফাইল ও ল্যাপটপ বার করে আনেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে দলের নির্বাচনী কৌশল চুরির অভিযোগ তোলেন। পুলিশের দাবি, তদন্তে বাধা দেওয়ার কারণে বৃহস্পতিবারই ইডির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন।