মমতার চিঠির আফটার শক! হোয়াট্সঅ্যাপ নয় লিখিত নির্দেশে ফিরছে নির্বাচন কমিশন

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০:১৫: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির অভিঘাত, ভোল বদলে চিরাচরিত প্রথায় ফিরছে কমিশন। আর হোয়াট্সঅ্যাপে বার্তা নয়, এবার থেকে যতটা সম্ভব লিখিত নির্দেশ দেবে কমিশন, এমনই খবর। পাশাপাশি ভার্চুয়াল বৈঠকে তথ্য-প্রযুক্তিগত-সমস্যা নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে খবর। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া চিঠির পরই এহেন পদক্ষেপ করল কমিশন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে বৈঠকে বসেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশনের আধিকারিকেরা জানতে চান, জেলায় জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কী কী অসুবিধা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারপরই সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়েছে কমিশন। কোথায়, কী অসুবিধা হচ্ছে তা নিয়ে জেলাশাসকদের মতামত চেয়েছে কমিশন। জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে কমিশনের আধিকারিকেরা বলেন, “আইটি সংক্রান্ত আপনারা যা যা প্রস্তাব পাঠাবেন তা কার্যকর করে দেওয়া হবে।”
চিঠিতে মমতা অভিযোগ করেছিলেন, হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কেন লিখিত নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। সে বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, “এবার থেকে হোয়াট্সঅ্যাপের বদলে যতটা পারব চিঠির মাধ্যমে আপনাদের জানিয়ে খবরাখবর দেব। যতটা সম্ভব হবে লিখিত চিঠি বা লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেত্রী হিসাবে নয়, বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে ওই চিঠি লিখেছিলেন। দলগতভাবে তৃণমূল ক্রমশ চাপ বাড়ছে। কার্যত সেই চাপের মুখে কমিশনের এহেন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।