মেদিনীপুরে দিলীপ ‘স্বমহিমায়’ ফিরতেই চরম অস্বস্তিতে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা!

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৩০: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরেই ভোলবদল! দীর্ঘ সময় পর চেনা মেজাজে, পুরনো ফর্মে দেখা গেল বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh)। আর ‘দিলীপ দা’ নিজের গড়ে ফিরতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন মেদিনীপুর জেলার শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ বিজেপি (BJP) নেতারা। পরিস্থিতি এমন যে, কেউ কেউ লোকলজ্জায় মঞ্চে বসছেন অনিচ্ছা সত্ত্বেও, কেউবা সন্তর্পণে এড়িয়ে যাচ্ছেন দিলীপের ছায়াও। আবার একাংশ ব্যস্ত রাজনৈতিক ‘জল মাপতে’।
সম্প্রতি নিজের পুরনো গড় খড়গপুরের ওল্ড এলআইসি মোড়ে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-র মাধ্যমে কার্যত নতুন ইনিংসের সূচনা করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই সভায় দিলীপ অনুগামীদের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। চন্দন ঘোষ, রঞ্জন ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ, বিথীকা চৌধুরী কিংবা কামাল হোসেনের মতো নেতাদের সামনের সারিতে দেখা গেলেও, দূরবীন দিয়েও খোঁজ মেলেনি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতাদের। এলাকার প্রভাবশালী নেতা শুভজিৎ রায়, অরূপ দাস, রমাপ্রসাদ গিরিরা কার্যত উধাও ছিলেন এই কর্মসূচী থেকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপের এই ‘প্রত্যাবর্তন’ জেলার সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়েছে। যুবনেতা আশীর্বাদ ভৌমিক, যিনি একসময় দিলীপ অনুগামী হলেও পরে শুভেন্দু শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন, তিনিও এদিনের কর্মসূচী এড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ শংকর গুছাইতকে সভায় দেখা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নেতারা এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়েছেন। কোন দিকে পাল্লা ভারী হয়, তা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। আর নেতাদের এই দোটানায় সবথেকে বেশি চাপে পড়েছেন নিচুতলার বিজেপি (BJP) কর্মীরা।
রেলশহর খড়গপুর দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জন্মভূমি। এখান থেকেই তিনি প্রথম বিধায়ক এবং পরে মেদিনীপুরের সাংসদ নির্বাচিত হন। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে ‘অচেনা’ বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে পাঠানো হয় এবং তিনি তৃণমূলের কীর্তি আজাদের (Kirti Azad) কাছে পরাজিত হন। দিলীপ ঘনিষ্ঠদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, দিলীপবাবুকে মেদিনীপুর ছাড়া করার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ছিল।
গত কয়েক মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ অনুগামীরা। পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয়েছিল যে, দীঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সৌজন্য সাক্ষাতের পর সিপাইবাজারে দলীয় কার্যালয়ে দিলীপের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে বিক্ষোভ পর্যন্ত দেখানো হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।
কিন্তু রাজনীতির পাশা এখন উল্টেছে। অমিত শাহের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের পর দিলীপ ঘোষ যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন। একাধিক কর্মসূচীতে কর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা বুঝিয়ে দিচ্ছে, মাটি এখনও আলগা হয়নি। দিলীপের এই নিজস্ব ঢঙে ‘ব্যাটিং’ শুরু করতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে শুভেন্দু শিবিরের।