বন্ধুত্বের আড়ালে প্রতিযোগিতা!! অক্ষয় খান্নাকে কোন্ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিলেন আমির খান?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:৩০: এই মুহূর্তে বলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অক্ষয় খন্না। এক সময় নায়ক চরিত্রে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেও যে সাফল্য বারবার হাতছাড়া হয়েছে, সাম্প্রতিক ছবির সাফল্যে তা যেন হঠাৎ করেই বহু গুণে ফিরে এসেছে। আর ঠিক এই সময়েই ফের চর্চায় উঠে আসছে পুরনো এক অজানা গল্প—এমন একটি ছবি, যা নাকি অক্ষয়কে অনেক আগেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ কি সত্যিই তাঁর হাতছাড়া হয়েছিল আরেক তারকার কারণে?
ঘটনার শুরু বহু বছর আগে। একটি জনপ্রিয় ছবির শুটিং চলাকালীন অক্ষয় ও আমিরের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ছবি মুক্তির পর দর্শকের প্রশংসা পেলেও, অক্ষয়ের অভিনয় যতটা প্রশংসিত হওয়ার কথা ছিল, ততটা আলোচনায় আসেনি বলে মত ইন্ডাস্ট্রির একাংশের।অনেকের মতে, তাঁর চরিত্রটিকে যেন নীরবে আড়ালেই রেখে দেওয়া হয়েছিল।
এর কয়েক বছর পর এক সংবেদনশীল গল্প নিয়ে ভাবতে শুরু করেন চিত্রনাট্যকার অমোল গুপ্ত। শিশু ও শিক্ষকের সম্পর্কের উপর নির্মিত সেই ছবিতে শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন অক্ষয় খন্না। কিন্তু যোগাযোগের উপযুক্ত নম্বর না থাকায় তিনি সাহায্য চান বন্ধু আমির খানের কাছ থেকে। অমোল নিজের ভাবনা ও ছবির কাহিনি আমিরকে শোনান। গল্প শুনে আমির গভীরভাবে প্রভাবিত হন। শোনা যায়, তখনই তিনি অমোলকে অনুরোধ করেন—অক্ষয়ের বদলে যেন তাঁকেই ওই শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়।শুধু তাই নয়, ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বও তিনি নিজে নিতে চান বলে জানান।
শেষ পর্যন্ত ছবিটি তৈরি হয়, ব্যাপক সাফল্য পায়, কিন্তু সেখানে আর দেখা যায় না অক্ষয়কে। বলিপাড়ার অন্দরমহলের দাবি, আমির আগেভাগেই বুঝে গিয়েছিলেন—এই ছবি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। তাই কোনও অবস্থাতেই এই সুযোগ ছাড়তে চাননি তিনি।
যদিও পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে আমির জানান, চিত্রনাট্য পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল—এই চরিত্রটি তিনি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁর ধারণা ছিল, অমোল তখনও পরিচালক হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত নন। সেই কারণেই তিনি গল্পটি কিনে নেন এবং নিজেই ছবির হাল ধরেন। এরপর যা হয়েছে,তা তো আজ ইতিহাস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি আসে শেষে। ছবি মুক্তির পর আমির নিজেই অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনাটি খোলাখুলি জানান। সব শোনার পরেও অক্ষয় কোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেননি।
তবু আজও কৌতূহল থেকেই যায়—যদি সেদিন সেই ছবিতে শিক্ষকের চরিত্রে অক্ষয়কেই দেখা যেত, তবে কি আজ বলিপাড়ার তারকাদের ভাগ্যরেখা একটু অন্যরকম হতো?