SIR নিয়ে ২৬-এ ২৬টা কবিতা! বইমেলার মঞ্চ থেকে এজেন্সি ও কমিশনকে নিশানা মমতার

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:৪৫: বইমেলার মঞ্চে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় এজেন্সি, কমিশন এবং SIR-র ভূমিকা নিয়ে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি জানালেন, এজেন্সির এই ‘হয়রানি’র প্রতিবাদে তিনি কলম ধরেছেন, লিখে ফেলেছেন ২৬টি কবিতাও।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ না খুললে তার খেসারত সকলকেই দিতে হবে। তাঁর কথায়, “মানুষের বিপদ দেখে চুপ করে থাকলে একদিন নিজেকেও বিপদে পড়তে হবে।” এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘SIR’-এর নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “হিয়ারিংয়ের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এই চাপে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।” গোটা পরিস্থিতিকে এজেন্সির ‘নির্যাতন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজ করতে ভালোবাসেন কিন্তু নিজের প্রচার পছন্দ করেন না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমারে না যেন করি প্রচার, আমার আপন কাজে।’’ তবে নিজের সৃষ্টিশীল কাজ নিয়েও যে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, অতীতে তাঁর আঁকা ছবির দু’টি প্রদর্শনী হওয়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “তখন আমার নিজেকে লাঞ্ছিত মনে হয়েছিল, অপমানিত বোধ করেছি।”
প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তিনি যে সাহিত্যকেই বেছে নিয়েছেন, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন মমতা। তিনি জানান, ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে এজেন্সির কার্যকলাপ ও ‘SIR’ ইস্যু নিয়ে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন। হেলিকপ্টারে যাতায়াতের পথে মাত্র দু-তিন দিনেই এই কবিতাগুলি লেখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২৬-এ ২৬টা কবিতা লিখেছি। ওটাই ‘স্যার’ নামে বই আকারে বেরোবে।”
বইমেলা প্রাঙ্গণকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সেখানে ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর পরিকল্পনা, মহাকালধাম বা জগন্নাথধামের আদলে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বই দিয়ে সাজানো একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হোক। বইমেলার ৫০ বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন তীর্থক্ষেত্রটি চাক্ষুষ করতে চান।
পাশাপাশি নিজের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাতবারের সাংসদ ও দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পেনশন বা বেতন বাবদ এক পয়সা নেননি। তাঁর দাবি, এই বাবদ প্রাপ্য কয়েক কোটি টাকা তিনি সরকারকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। সমালোচকদের বিদ্রুপের জবাবে তিনি বলেন, নিন্দুকদের গালিগালাজকেও তিনি ভালবাসেন। তাঁর মতে, হয়তো তাঁরা ভালো কিছু বলতে গিয়ে না পেরেই কটু কথা বলেন।
এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর মোট ৯টি নতুন বই প্রকাশিত হতে চলেছে। এর ফলে তাঁর লেখা মোট বইয়ের সংখ্যা ১৫৩ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১৬২-তে। বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে একদিকে সৃষ্টিশীলতার খতিয়ান এবং অন্যদিকে এজেন্সির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তোপ, সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।