পাঁচ রাজ্যে ভোটে হারের পূর্বাভাস পেয়েই কি উপহারহীন বাজেট মোদী সরকারের?
রাজনৈতিক মহল ইঙ্গিত পাচ্ছে, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনে ব্যর্থ হবে বিজেপি। আর তাই অযথা উপুড়হস্ত হয়ে সরকারি রাজকোষের ভাণ্ডারে চাপ দিতে নারাজ মোদী সরকার।
Authored By:

সাহসী পদক্ষেপ? নাকি আসন্ন ভোটে হারের গন্ধ? হিসেব মিলছে না। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট। প্রচার চলছে পুরোদমে। আর ঘটনাচক্রে তার আগেই বাজেট। সাধারণ নিয়মে এই সমাপতন শাসক দলের কাছে সোনায় সোহাগা। সাপ মরবে, লাঠিও ভাঙবে না। অর্থাৎ নির্বাচনের জন্য একঝাঁক ভোটমুখী জনপ্রিয় উপহার সাজিয়ে গুছিয়ে পেশ করা যাবে বাজেট ঘোষণা হিসেবে। অথচ লঙ্ঘন হবে না নির্বাচনী আচরণবিধি। এই ছিল বড় সুযোগ। অথচ রাজনৈতিক মহলকে চরম বিস্মিত করল মোদী সরকার। বাজেটে একটিও জনমোহিনী ঘোষণা নেই! কেন এই উলটপুরাণ? অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর থেকেই দু’টি তত্ত্ব ঘুরছে দিল্লির দরবারে। ১) এই প্রথম বাজেটকে রাজনীতির বাধ্যবাধকতার বাইরে নিয়ে আসার সাহসী প্রক্রিয়া শুরু হল। এটা পুরোদস্তুত সরকারি স্তরের সাফাই। ২) পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী ফলের নিশ্চিত কোনও পূর্বাভাস কি ইতিমধ্যেই পেয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব? কারণ, নানা মহলে চর্চা তো বটেই, তাবৎ জনমত সমীক্ষাও বিজেপির পরাজয়ের রায় দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহল ইঙ্গিত পাচ্ছে, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনে ব্যর্থ হবে বিজেপি। আর তাই অযথা উপুড়হস্ত হয়ে সরকারি রাজকোষের ভাণ্ডারে চাপ দিতে নারাজ মোদী সরকার।
কোন তত্ত্বটি সঠিক, সেই উত্তর সময় বলবে। কিন্তু ঠিক এখানেই উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন জল্পনা। এই একটি রাজ্যে বিজেপি আলোচনা ও বিভিন্ন সমীক্ষায় এগিয়ে। তাহলে তো খুব স্বাভাবিক ছিল, সেই সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে আরও নিশ্চিত করতে মোদী সরকার বাজেটে একঝাঁক উপহার দেবে! তাহলে কেন শিকে ছিঁড়ল না? বাজেটে বিশেষ কিছু না থাকায় সাধারণ মানুষ যত না ক্ষুব্ধ, তার থেকে কম হতাশ নন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ! রেলের নিয়োগ সমস্যা নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে ভালোরকম সঙ্কটে বিজেপি। তার উপর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের জাঠ, দলিত ও কৃষক কম্বিনেশন শপথ নিয়েছে বিজেপিকে হারানোর। এই পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের বাজেটে যদি কিছুও জনমুখী উপহার পাওয়া যেত, তা কাজে লাগত প্রচারে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলেছেন নির্মলা সীতারামন। মুখে স্বীকার না করলেও এই ‘বঞ্চনা’য় বিস্তর অখুশি যোগীশিবির। আর তাই লখনউয়ের আনাচে কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয় তো? যোগী পূর্ণ বিক্রমে ফিরে আসুন, এটা নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ আদৌ মন থেকে চাইছেন কি? বিজেপির অন্দরে জোরদার জল্পনা, উত্তরপ্রদেশে হারজিতের সঙ্গে মোদীর নয়, যোগীর রাজনৈতিক কেরিয়ার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। দ্বিতীয়বার জয়ী হলে মোদীর পর বিজেপির অন্দরে সবথেকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নেতায় পরিণত হবেন তিনি। আর হেরে গেলে, মোদীই থেকে যাবেন দলের বৃহত্তম একনায়ক হিসেবে। আসন্ন নির্বাচনে যোগী যতই চাপে থাকুন না কেন, ২০২৪ সালে মোদীর পক্ষে উত্তরপ্রদেশে বিপুল জয় আদায় কঠিন নয় বলেই মনে করে বিজেপি। সেই কারণেই কি ‘ডবল ইঞ্জিনের’ সুবিধা ছাড়া লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়ে দেওয়া হল যোগীকে? রাজনৈতিক মহল বলছে, এই প্রবণতা বিজেপির রাজনীতিতে বিসদৃশ! হিসেব মিলছে না দিল্লির দরবারে। উত্তরপ্রদেশেও।