লোকাল ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে সংসদে সরব শতাব্দী
২০২১সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৪সাল পর্যন্ত ওয়েটিং লিস্টের বাতিল করা টিকিট থেকে আয় হয়েছে ১২২৯.১৮কোটি টাকা।
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: বুকিং শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই দূরপাল্লার ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের টিকিট উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে টিকিটের ওয়েটিং লিস্ট। সেই টিকিট বাতিল করলেই পোয়াবারো রেলের। পকেট ফাঁকা হচ্ছে যাত্রীদের। রেলের একটি আরটিআই রিপোর্ট তুলে ধরে সোমবার সংসদে সরব হয়েছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সংরক্ষিত আসনের বাতিল হওয়া টিকিট থেকে ২০১৯-’২০ সাল থেকে ২০২২-’২৩ সাল অবধি রেলের আয় হয়েছে ৬১১৩.১৮কোটি টাকা। পাশাপাশি ২০২১সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৪সাল পর্যন্ত ওয়েটিং লিস্টের বাতিল করা টিকিট থেকে আয় হয়েছে ১২২৯.১৮কোটি টাকা। কিন্তু দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কাটতে বসলেই তিন মিনিটে সমস্ত আসন ভর্তি হয়ে যায়।
সাংসদের কথায়, যাত্রীদের সংরক্ষিত আসনের বাতিল করা টিকিট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ রোজগার করছে রেল। ৬০দিন আগে টিকিট বুকিং শুরু হতেই মাত্র তিন মিনিটে সব আসন বুকিং হয়ে যায়। এরপর যাত্রীরা ওয়েটিং তালিকায় টিকিট কাটেন। কিছু টিকিট কনফার্ম হওয়ায় যাত্রীরা যাতায়াতের সুযোগ পেলেও বহু ওয়েটিং লিস্টের টিকিট বাতিল হয়ে যায়। তাতে যাত্রীদের টিকিট থেকে বিপুল মুনাফা হচ্ছে রেলের। তাছাড়া কোনও যাত্রী যাত্রার আগে টিকিট বাতিল করলে জিএসটি সহ অনেক টাকা কেটে নেয় রেল। সেখান থেকেও অনেক টাকা মুনাফা করছে রেল। কিন্তু সাংসদের প্রশ্ন, টিকিটের সঙ্কট তৈরি করে রেল মুনাফা করছে বলে অভিযোগ উঠছে। অথচ যাত্রী পরিষেবায় সংরক্ষিত টিকিট নিয়ে কোনও উল্লেখ্য নেই রেল বাজেটে।
এছাড়া সাংসদ লোকাল ট্রেনের পরিষেবা উন্নত করার দাবি তুলেছেন। সাংসদের অভিযোগ, বিরিয়ানি যেমন সবার কপালে জোটে না তেমনই বন্দে ভারতে সবাই চাপতে পারেন না। কিন্তু লোকাল ট্রেনে যেভাবে ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়, তাতে বড় বিপদের আশঙ্কা থাকে। লোকাল ট্রেনগুলিতে শৌচাগার, লাইট ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচুর অভিযোগ যাত্রীদের। সাংসদ আরও অভিযোগ তোলেন, রেলের কোনও সেতু বা রাস্তা নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে বাজেট বেড়ে যায়। সাংসদ বলেন, রেলের বেহাল অবস্থা নিয়ে কিছু বিষয় সংসদে তুলে ধরেছি। লোকাল ট্রেনগুলির পরিষেবা ভালো করা দরকার।