GST কমানোয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন মানুষ, বললেন অমিত মিত্র
তাঁর মতে, “প্রধানমন্ত্রী একে ফেডারেলিজম বলে দাবি করলেও, জিএসটি কাউন্সিলে ১১ জন অর্থমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ চাইলেও তাদের বক্তব্য উপেক্ষা করা হয়েছে।”
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৫৭: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রধান উপদেষ্টা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ডঃ অমিত মিত্র (Dr. Amit Mitra) জিএসটি (GST) কমানোর সিদ্ধান্তকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে এই সংস্কারের ঘোষণা করলেও রাজ্যগুলির থেকে আগাম কোনো পরামর্শ না নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির লঙ্ঘন হয়েছে। তাঁর মতে, “প্রধানমন্ত্রী একে ফেডারেলিজম বলে দাবি করলেও, জিএসটি কাউন্সিলে ১১ জন অর্থমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ চাইলেও তাদের বক্তব্য উপেক্ষা করা হয়েছে।”
অমিত মিত্রের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য কর হ্রাস সুখবর হলেও, এর সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছনো নিশ্চিত নয়। কারণ, অ্যান্টি-প্রফিটিয়ারিং অথরিটি (Anti-Profiteering Authority) নামক কমিটি, যা নিশ্চিত করত যে জিএসটি কমানোর সুবিধা গ্রাহকরা পাচ্ছেন, তা এখন কার্যত অস্তিত্বহীন। তিনি আরও দাবি করেন যে স্বাস্থ্য ও জীবন বীমায় (Health & Life Insurance) শূন্য শতাংশ জিএসটির দাবি প্রথম তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি আনন্দিত যে কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত এই দাবি মেনে নিয়েছে।”
তবে মূল উদ্বেগের বিষয় হলো এই সিদ্ধান্তে রাজ্যগুলির আয় মারাত্মকভাবে কমবে। অমিত মিত্র স্মরণ করিয়ে দেন যে জিএসটি চালুর সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি (Arun Jaitley) রাজ্যগুলিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী পাঁচ বছর তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন রাজস্ব ক্ষতির সঠিক হিসেব না মেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীশক্তি, তফসিলি জাতি-উপজাতি উন্নয়ন, মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভারতের রাজস্ব সচিব সম্প্রতি জানিয়েছেন যে এই সিদ্ধান্তে ৪৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্বে প্রভাব পড়বে। কিন্তু ডঃ মিত্রের মতে, “এটি আসলে রাজস্ব ক্ষতি। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে সাপ্লাই চেইনের হিসেব এতে ধরা হয়নি। শ্যাম্পুর মতো একটি পণ্যের ক্ষেত্রেই সুরফ্যাক্ট্যান্ট, সালফেট ইত্যাদি ইনপুটে ১৮ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হয়। কোম্পানিগুলি সেই ট্যাক্স ফেরত চাইবে। হাজার-হাজার ইনপুটের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটবে। তাই ক্ষতির পরিমাণ সহজেই এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই ক্ষতি নিয়ে শুধু বাংলাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও লিখিতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই তাঁর দাবি, কেন্দ্রের অবশ্যই রাজ্যগুলির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। নয়তো, সাধারণ মানুষ সাবান বা শ্যাম্পুর দাম কমাতে সামান্য লাভ করলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।