জাঁকিয়ে বসেছে আতঙ্ক! উৎসবের মরশুমে ধাক্কা নেপালের পর্যটন শিল্পে
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০.৫৮: ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে নেপাল কিন্তু আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। পুজোয় নেপাল ভ্রমণের বুকিং বাতিলের ধুম পড়ে গিয়েছে। নেপালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পর্যটন শিল্প। কিন্তু এবার উৎসবের মরশুমে সেই পর্যটন শিল্পই কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে নেপাল। উদ্বিগ্ন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। নেপালের জিডিপির (GDP) প্রায় ১৫ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের জীবন, জীবিকা সমস্যায় পড়ছে।
নেপাল সরকারের তথ্য বলছে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮৮,৬৮০ জন বিদেশি পর্যটক নেপাল ভ্রমণ করেছে। তাদের মধ্যে ভারত থেকেই ৩৫,৫০৫ জন গিয়েছেন! বাকি পর্যটকরা বাংলাদেশ, ভুটান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, নেপাল ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। এই কারণে উত্তরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রায় ৫০ শতাংশ নেপাল ভ্রমণে যান। বাঙালিদের মধ্যেও নেপাল ভ্রমণ নিয়ে আলাদাস্তরের আকর্ষণ দেখা যায়। পুজোয় সে দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে থাকেন।
কিন্তু নেপালের সাম্প্রতিক অশান্তির জেরে সব আশায় জল পড়েছে। বুকিং বাতিলের ফলে ইতিমধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে নেপাল। নেপালের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ২৪টির বেশি হোটেল ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কাঠমান্ডুর হিলটন হোটেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। পোখারা, ভৈরহাওয়া, বিরাটনগর ও ধানগঢী-সহ অন্য পর্যটনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কয়েক হাজার পর্যটক আটকেও পড়েছিলেন। এরপরই পুজোর মরশুমে নেপাল ভ্রমণের বুকিং বাতিল শুরু হয়। হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কর্মকর্তাদের মতে, মানুষ আতঙ্কিত। সেই আতঙ্ক থেকে নেপালের বুকিং বাতিল করছেন মানুষজন। আতঙ্ক না-কাটলে পর্যটকরা নেপালমুখী হবেন না।