ইউনূসকেই ফাঁসি দেবেন হাসিনা! মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনে পাল্টা হুঁশিয়ারি মুজিব কন্যার

November 19, 2025 | 2 min read

Authored By:

Saikat Saikat

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:২৮: শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল আদালত (Bangladesh Tribunal Court) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তবে আওয়ামী লীগের (Awami League) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দাবি, এই সাজা শুনে দমে যাওয়া তো দূরের কথা, শেখ হাসিনা বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন। তিনি সোমবার রাতেই তাঁর অনুগামীদের ফোন করে বলেছেন যে, ‘ইউনূস আমাকে কী ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!’

কলকাতায় ‘আশ্রিত’ এক শীর্ষ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে জানান, “নেত্রী প্রথমে অনেকটা অভিমানের সুরে বললেন, ‘আমার গলায় ফাঁসির রশি আর তোমরা আমাকে একটা ফোনও করলা না?'” এর পর যখন সেই নেতা ইতস্তত করে জবাব দেন, তখনই হাসিনা তাঁকে সটান বলেন, “মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কি ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব! আল্লা আমারে এমনি এমনি বাঁচিয়ে রাখেননি। গ্রেনেড হামলাতেও আমার প্রাণ যায়নি!”

আওয়ামী লীগ অনুগামীরা আরও জানিয়েছেন যে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা জাতীয় পার্টি সহ ১৪টি পার্টিকে ভোটে লড়তে না দেওয়ায় একটি অলিখিত জোট হয়ে থাকবে। তাদের বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ দল ছাড়া ভোট হলে যে পার্টিই ক্ষমতায় আসবে, তাদের বৈধতা তৈরি হয়ে যাবে, যা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের লড়াইকে কঠিন করবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বরা বলছেন, ‘‘আমরা পিছনের দিকে তাকাতে চাই না। ‍যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আমরা সামনে তাকাতে চাই।’’

আদালত গত বছরের জুলাইয়ের বিদ্রোহের জন্য শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) দোষী সাব্যস্ত করেছে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত জানিয়েছে, হাসিনার অপরাধ মানবতাবিরোধী। জুলাই বিদ্রোহের সময় নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, হাসিনা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে একজন স্বৈরশাসক হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ে তাঁকে অসংখ্য অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত হন হাসিনা এবং আশ্রয় নেন ভারতে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় থাকা সত্ত্বেও ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয় বলে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক অনিন্দ্যজ্যোতি মজুমদার (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যার জন্য নয়াদিল্লি তা মানতে বাধ্য নয়। অধ্যাপক ইমনকল্যাণ লাহিড়ীও একই শর্তের কথা উল্লেখ করে ভারতকে প্রত্যর্পণে বাধ্য না হওয়ার বিষয়টি জানান। অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীর (রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) মতে, সোমবারের রায়ের পর বাংলাদেশে হাসিনার প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা থাকায় চুক্তির নিয়ম অনুসারেই ভারত প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়। কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস আইনি দিকটি ব্যাখ্যা করে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি কোনও দেশে কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়।

২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোনও অপরাধ যদি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না। তবে খুন, গুম এবং নির্যাতনের মতো অপরাধ, যেগুলির কয়েকটিতে হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলেও সেখানে বলা হয়েছে। চুক্তির মূল বিষয়টি হলো, যদি বিচার প্রক্রিয়ার পেছনে সৎ উদ্দেশ্য না থাকে, তবে ভারত কিংবা বাংলাদেশ কাউকেই প্রত্যর্পণ করবে না। এই যুক্তিগুলিই ভারত ব্যবহার করতে পারে হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করার ক্ষেত্রে। হাসিনা নিজেও বারবার অভিযোগ করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া আসলে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen