ভেঙে গেল জয়-বীরুর দোস্তি! প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:০০: ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত হারাল তার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। প্রয়াত হলেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র (Dharmendra Deol)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ভারত, বলিউডের সহকর্মী থেকে শুরু করে কোটি ভক্ত।
১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্জাবের লুধিয়ানার সাহনেওয়ালে এক শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ধর্ম সিং দেওল। পিতা কেরাম সিং ছিলেন সরকারি স্কুলের হেডমাস্টার। ধর্মেন্দ্রর পড়াশোনা সম্পন্ন হয় সরকারি স্কুল ও আর.জি. কলেজে। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা।
১৯৫৮ সালে Filmfare New Talent Hunt প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বলিউডে প্রবেশের সুযোগ পান তিনি। ১৯৬০ সালে Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন হিন্দি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুমুখী অভিনেতাদের অন্যতম।
ধর্মেন্দ্রর কর্মজীবন প্রায় ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ। ১৯৬০ থেকে ২০২০-এর দশক পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন — যা বলিউডের ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে— Phool Aur Patthar (১৯৬৬), Anupama (১৯৬৬), Bandini, Chupke Chupke (১৯৭৫), Sholay (১৯৭৫), Yaadon Ki Baaraat (১৯৭৩), Seeta Aur Geeta, Dost, Dream Girl, Jugnu, Raja Jani, The Burning Train, Azaad, Krodhi, Patthar Aur Payal, Charas, Aaya Sawan Jhoom Ke, Blackmail, Pratigya, Rakta Bandhan, Satyakam প্রভৃতি। হিন্দি ছাড়াও তিনি পঞ্জাবি সিনেমা Kankan De Ohle, Do Sher, Teri Meri Ik Jindri, Qurbani Jatt Di এবং তেলুগু ছবি Tappu Chesi Pappu Koodu-তে অভিনয় করেছেন
অ্যাকশন, রোম্যান্স ও কমেডি—সব ধারাতেই সমান পারদর্শী ছিলেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর গঠন, কণ্ঠস্বর ও ব্যক্তিত্বের জন্যই তাঁকে বলা হত “বলিউডের হি-ম্যান”। তবে পর্দার বাইরে তিনি ছিলেন এক নিবেদিত পারিবারিক মানুষ—সহজ, সরল প্রকৃতির। তাঁর প্রথম বিবাহ হয়েছিল প্রভা কৌরের সঙ্গে, যাঁর সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে—সানি দেওল ও ববি দেওল। দু’জনেই বলিউডে সফল অভিনেতা। পরবর্তীতে ধর্মেন্দ্র বিবাহ করেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীকে, তাঁদের দুই কন্যা—ঈশা দেওল ও অহনা দেওল।
স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। Filmfare Lifetime Achievement Award (১৯৯৭), Padma Bhushan (২০১২) — National Film Award (২০১২), Yamla Pagla Deewana ছবির জন্য, একাধিক *Filmfare Best Actor ইত্যাদি।
চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র ২০০৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে রাজস্থানের বিকানের কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। যদিও তিনি রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন না, তবুও তাঁর সরলতা ও সততার জন্য তিনি ভোটারদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন।
ধর্মেন্দ্র এমন এক অভিনেতা, যিনি রোমান্স ও অ্যাকশনের মাঝেও “ইন্ডিয়ান মাচো হিরো”-র সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন। তাঁর জনপ্রিয় সংলাপ, ভঙ্গি, এবং “Basanti, in kutton ke samne mat nachna!” (Sholay)-এর মতো আইকনিক মুহূর্ত আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর। তাঁর পরিবার আজও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত—সানি দেওল রাজনীতি ও অভিনয়ে, ববি দেওল ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রে, আর ঈশা দেওল অভিনয়ে সক্রিয়। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বলিউডে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ধর্মেন্দ্রর অবদান চিরকাল অমলিন থাকবে। তিনি কেবল এক অভিনেতা নন, তিনি ছিলেন এক যুগের বাহক।
Daughter #EshaDeol arrives at the Pawan Hans Cremation Centre for #Dharmendra ji’s last rites.#FilmfareLens pic.twitter.com/fpqOIUT2uv
— Filmfare (@filmfare) November 24, 2025