ব্যর্থ মোদীর বিদেশনীতি? চীনকে ‘পুরস্কার’ এবং আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার!

January 15, 2026 | 2 min read
Published by: Raj

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩.৫১: সীমান্তে লাল ফৌজের চোখরাঙানি, অথচ ব্যবসায় লাল গালিচা? ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগে ও পরে পাকিস্তানকে লাগাতার সাহায্য করা সত্ত্বেও চীনকে কি এবার বিশেষ ‘পুরস্কার’ দিল মোদী সরকার?

রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, গত পাঁচ বছর ধরে যে চীনা সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা নাকি নীরবে তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন? তবে কি মোদী সরকারের তথাকথিত ‘শক্তিশালী’ বিদেশনীতি আজ আমেরিকার চাপে নতিস্বীকার করছে?

আজকের ভিডিওতে আমরা বিশ্লেষণ করব, কীভাবে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এবং কেন বিরোধীরা মোদী-জয়শঙ্কর জুটির নীতিকে ‘ব্যর্থ’ বলছেন।

রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ বছর ধরে ভারতের সরকারি টেন্ডারে চীনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের ওপর যে কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের সরকারি প্রকল্পগুলোতে চীনা সংস্থাগুলো ফের অবাধে অংশ নিতে পারবে।

লাদাখ সীমান্তে গালওয়ানের ঘটনার পর ভারত যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত কি তার উল্টো পথে হাঁটা নয়? বিরোধীদের প্রশ্ন, সীমান্তে চীনের আগ্রাসন বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন এই ‘পুরস্কার’? তবে কি অর্থনৈতিক চাপে পড়ে বা আমেরিকার নির্দেশে বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের মরিয়া চেষ্টা করছে দিল্লি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান মোদী সরকার আমেরিকার প্রতি অতিরিক্ত ‘নতজানু’ মনোভাব দেখাতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করাটা ভারতের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে।

অন্যদিকে, আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তান অত্যন্ত চতুর কূটনৈতিক চাল চেলেছে। ভারতের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও আইএমএফ (IMF) পাকিস্তানকে বিপুল ঋণ মঞ্জুর করেছে, আর এখানে আমেরিকার প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান আজ আমেরিকা এবং চীন- উভয় মহাশক্তিকেই নিজেদের পাশে পেতে সক্ষম।

কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারতের ঠিক নাকের ডগাতেই তৈরি হয়েছে এক নতুন অক্ষ। ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ-চীন’। ভারতের নিরাপত্তার জন্য যা এক বড়সড় হুমকি।

শুধু তাই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের দাদাগিরি বা প্রভাব আজ তলানিতে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের পর বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ‘সার্ক’-এর নেতৃত্বে ভারত ব্যর্থ। একসময় যারা ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল, তারা আজ বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কি আজ কার্যত একা?

সরকার মুখে যতই শক্তিশালী ভারতের কথা বলুক, লাদাখ সীমান্তে চীনের অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর হতে না পারা এবং বর্তমানে চীনা ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, এই দ্বিমুখী নীতি সরকারের দুর্বলতাকেই প্রকট করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার চাপে পড়ে অস্থির নীতি গ্রহণ ভারতকে বিশ্বমঞ্চে হাস্যস্পদ করে তুলছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen