ভিন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, বিশিষ্টদের SIR নোটিস! বিজেপি-কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মমতা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:১৮: কেন্দ্র ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধীদের। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় বিচারপতি সুজয় পালকে অভিনন্দন জানান তিনি।
*পরিযায়ী শ্রমিক ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার*
বিহারে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিহারে কালকে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার বা বিজেপি সরকার আছে, তারাই আমাদের লোকেদের পিটিয়ে মারছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি বাংলায় ভোট চায়, অথচ তাদের শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর কেন অত্যাচার চলছে? আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে রাজ্য সরকার দাঁড়াবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
*ভোটার তালিকা ও বিশিষ্টদের নোটিস*
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের শংসাপত্র বা আধার কার্ড গ্রাহ্য না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে স্কুলের শংসাপত্র গ্রাহ্য হয়ে আসছে। সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বেও আধার কার্ড মানা হচ্ছে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী, দেব, লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো বিশিষ্টদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছে। এমনকি প্রাক্তন বিদেশসচিবকেও ডাকা হয়েছে। কাউকে বাদ দিচ্ছে না।” মালদহ সহ একাধিক জেলায় হাজার হাজার মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
*বেলডাঙা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি*
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “শুক্রবার পবিত্র জুম্মাবার। সেখানে নামাজ পড়তে আসা মানুষদের রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ কেউ উস্কানি দিচ্ছে। বিজেপি (BJP) ভোটে পারবে না বুঝে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে।” তিনি সংখ্যালঘুদের কাছে শান্ত থাকার এবং প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সংখ্যালঘুদের বলব, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধরুন। প্রশাসন প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছে।”
*মন্দির প্রকল্পের শিলান্যাস*
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি একটি মন্দির প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। তিনি বলেন, “ওখানে জমি পাওয়া গেছে এবং ট্রাস্ট তৈরি হয়ে গেছে। আমি শিলান্যাস না করলে কাজ শুরু হবে না, তাই আজকেই এই কাজটা করা হবে।” এছাড়াও জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখানো প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শেষে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি মানুষের জন্য জীবন দিতে রাজি, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।”