‘খুনে’র অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত বেলডাঙা, দোষীদের শাস্তির দাবিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন অভিষেকের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:০০: ঝাড়খণ্ডে রহস্যমৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga)। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। এই ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে এবার সরাসরি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
শুক্রবার দুপুরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দলীয় সূত্রে খবর, অভিষেকের ফোনের প্রেক্ষিতে হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren) আশ্বস্ত করেছেন যে, ঝাড়খণ্ড পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কোনও খামতি রাখা হবে না এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।
ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। বছর পাঁচেক আগে উপার্জনের আশায় ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে তাকে প্রায়শই হেনস্তার শিকার হতে হতো। আতঙ্কের কথা এর আগে ফোনে বাড়িতেও জানিয়েছিলেন আলাউদ্দিন। বৃহস্পতিবার বিকেলেও বাড়ির লোকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়, কিন্তু এরপর থেকে মোবাইল বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে এবং ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারের অভিযোগ, আলাউদ্দিনকে ‘বাংলাদেশি’ দাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এই খবর বেলডাঙায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। মৃতের প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বেলডাঙা স্টেশনে ট্রেন আটকে এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং জাতীয় সড়কে উত্তরবঙ্গ ও কলকাতাগামী যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দুপুরের দিকে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হয়। নিহত শ্রমিকের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হলে অবশেষে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।