SIR শুনানিতে অমর্ত্য সেনের প্রতিনিধিরা, জমা দিতে হল মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র!

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:০০: অবশেষে সম্পন্ন হলো নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের এসআইআর (SIR) শুনানি। শুক্রবার শান্তিনিকেতনে তাঁর পৈতৃক বাসভবন ‘প্রতীচী’-তে এই শুনানি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে খোদ নোবেলজয়ীর নাগরিকত্ব বা তথ্য যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়ায় একাধিক নথিপত্র চাওয়াকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে অধ্যাপক সেনের হয়ে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার এবং অমর্ত্য সেনের মামাতো ভাই শান্তভানু সেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর পাসপোর্টের ফটোকপি এবং আধার কার্ড জমা দেওয়া হয়। এদিন কমিশনের আধিকারিকরা অমর্ত্য সেনের মায়ের ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate) বা মৃত্যুর শংসাপত্রও দেখতে চান। তার প্রতিলিপি জমা নেওয়া হয়।
শুনানি চলাকালীন প্রতীচী ট্রাস্টের সদস্যদের গলায় আক্ষেপ ও বিস্ময় ঝরে পড়ে। একসময় ট্রাস্টের সদস্যরা কমিশনের আধিকারিকদের প্রশ্ন করেন, ‘‘অমর্ত্য সেনকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ভারতরত্ন প্রাপ্তির নথিও কি লাগবে?’’ যদিও শেষ পর্যন্ত পাসপোর্টের প্রতিলিপি, আধার কার্ড এবং মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র জমা দিয়েই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গীতিকণ্ঠ মজুমদার বলেন, “আমরা ওঁর পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র দিয়েছি।”
এদিন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) হয়ে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) তানিয়া রায়, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) সোমব্রত মুখোপাধ্যায় এবং আধিকারিক সন্দীপন চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এই শুনানি প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চরম হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। আতঙ্কে প্রাণহানির ঘটনাও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এসআইআর-এর তালিকা থেকে বাদ যাননি বাংলার বিশিষ্টজনেরাও।