আচমকা ট্রাম্পের মুখে ইরানের প্রশংসা, নেপথ্যে কোন কারণ?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ৯.৫০: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমননীতির অভিযোগ উঠেছিল তেহরানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছিল, ধৃতদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমেরিকা চুপ করে থাকবে না।
কিন্তু শুক্রবার আচমকাই সুর বদলে গেল। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তাঁর পোস্টে দাবি, বৃহস্পতিবার ৮০০-র বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকে ‘সম্মান’ জানিয়ে তেহরানকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মুখে ইরানের প্রশংসা, এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মহল দেখছে বিস্ময়ের চোখে।
কয়েক দিনের মধ্যে আমেরিকার এই সুরবদলের নেপথ্যে রয়েছে মূলত চারটি দেশ। সৌদি আরব, মিশর, কাতার এবং ওমানের মধ্যস্থতাতেই ইরান এবং আমেরিকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। চলতি সপ্তাহ জুড়ে আমেরিকা ও ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন ওই চার দেশের প্রতিনিধিরা। ট্রাম্পকে তাঁরা বোঝান, এই মুহূর্তে ইরানে কোনও সামরিক হামলা গোটা পশ্চিম এশিয়াকে অশান্ত করে তুলবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বার্থেই আঘাত হানবে। অন্য দিকে, ইরানকেও সতর্ক করা হয়, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালে তা আশপাশের দেশগুলির সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলবে।
এই কূটনৈতিক চাপের ফলেই গত বৃহস্পতিবার প্রথম সুর নরম করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানে খুনোখুনি কমেছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তার পর শুক্রবার এল আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশংসার বার্তা।