“লর্ড কার্জন পারেনি, আপনিও বাংলা ভাঙতে পারবেন না,” চাপড়ার রোড শো থেকে মোদীকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:১৫: ছাব্বিশের ভোটের আগে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। রবিবার নদীয়ার চাপড়ায় মেগা রোড শো- পর জনসভায় ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং ধর্মীয় মেরুকরণ সব ইস্যুতে এদিন সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নদীয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং বিজেপিকে (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
বাংলার মানুষকে ‘শিক্ষা’ দিতে কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মালদহে এসে বলেছেন বাংলাকে পাল্টানো দরকার। উনি আসলে বাংলার মানুষকে ভাতে মেরে, ১০০ দিনের টাকা ও মাথার ছাদ আটকে দিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। উনি চান বাংলা আত্মসমর্পণ করুক। কিন্তু ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন এসেও বাংলাকে ভাঙতে পারেনি, উল্টে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরাতে বাধ্য হয়েছিল। আর আপনারা ইডি-সিবিআই দিয়ে বাংলাকে ভয় দেখাচ্ছেন? আমাদের মাথা নত করাতে হলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বা বাড়ির বড়দের কাছে করব, দিল্লির জল্লাদদের কাছে বাংলা মাথা নত করবে না।”
কৃষ্ণনগর ও চাপড়া এলাকার বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এদিন দুর্নীতির লম্বা তালিকা তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “নাটনা জিপিতে বিজেপির প্রধান সরস্বতী বিশ্বাস ১০০ দিনের টাকা নয়ছয় করেছেন। কৃষ্ণনগর লোকসভার বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায় স্বয়ং বলেছিলেন যে তাঁর নির্বাচনের তহবিল বিজেপি সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস তছরূপ করেছেন।” এছাড়া কৃষ্ণনগরে বিজেপির পার্টি অফিস জবরদখল করে চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যে দল অবৈধভাবে পার্টি অফিস চালায়, তারা বাংলার ১০ কোটি মানুষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কোন সাহসে?”
বিজেপির তথাকথিত হিন্দুত্বের তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, “৭৫টা সিট পেয়ে এরা একজন নিরীহ ছেলেকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য মারধর করে। এটাই কি ওদের হিন্দুধর্ম? গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, তিনি সব জীবের মধ্যে বিরাজমান। আমরা স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি, যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার বা দাঙ্গার হিন্দুত্বে নয়।”
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জবাবে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮০০০ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তাশ্রী-পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা তৈরি করছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আবাস যোজনার টাকা পৌঁছে দেবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেউ বন্ধ করতে পারবে না।” আয়ুষ্মান ভারত বনাম স্বাস্থ্যসাথীর তুলনা টেনে তিনি বলেন, “যাদের বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ বা বাইক আছে তারা আয়ুষ্মান ভারত পায় না, কিন্তু স্বাস্থ্যসাথী বাংলার ১০ কোটি মানুষ পায়।”
নাগরিকত্ব এবং এনআরসি ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে আগামীদিনে নিঃশ্বাস নিতে গেলেও ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ গেছে। এখানেও নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তবে মনে রাখবেন, ইডি-সিবিআই, আধা সামরিক বাহিনী সব নামিয়েও তৃণমূলকে হারানো যাচ্ছে না।”
আগামী নির্বাচনের সুর বেঁধে দিয়ে অভিষেক বলেন, “তৃণমূলকে কৃষ্ণনগরে ১০ গোল দিয়ে জিততে হবে। যেভাবে ওরা মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, ভোটের বাক্সে তার জবাব দিতে হবে। পদ্মফুলের বাবুরা যেন বাক্স খোলার সময় চোখে সরষে ফুল দেখেন।” সবশেষে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান তুলে তিনি বলেন, “মেয়ের কাছেই থাকবে বাংলা, পারলে এবার মোদীবাবুর দিল্লি সামলা।”