‘মমতার লড়াইয়েই ধ্রুপদী মর্যাদা’, বাংলা ভাষা নিয়ে মোদীর দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ বলল তৃণমূল
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ০৭:৪৮: সিঙ্গুরের সভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, তাঁর সরকারই বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার (Classical Language) মর্যাদা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই দাবির পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে তথ্য পেশ করে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটের মুখে বাংলায় এসে ‘মিথ্যাচার’ করছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীকে ‘ক্রেডিট চোর’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াই ও গবেষণার ফলেই বাংলা এই সম্মান পেয়েছে, মোদী সরকারের দয়ায় নয়।
সিঙ্গুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা নাটকীয় ভঙ্গিতেই দাবি করেন যে, তাঁর সরকার বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষাকে সম্মান জানিয়ে ধ্রুপদী মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু মোদীর এই ভাষণের পরেই তৃণমূল কংগ্রেস কড়া ভাষায় আক্রমণ শানায়। দলের তরফে এক্স হ্যান্ডেল ও প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়, “যাঁরা বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে দাগিয়ে দেন, ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের খুন ও নির্যাতন করেন, তাঁদের মুখে বাংলার গুণগান মানায় না।” তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কেবল ‘ভোট চোর’ বা ‘পয়সা চোর’ নন, তিনি অন্যের কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে চালাতে চাওয়া ‘ক্রেডিট চোর’ও।
তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য আসল লড়াই লড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গবেষকদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করানো হয়। সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে চার খণ্ডের একটি বিশাল সংকলন তৈরি করা হয়, যেখানে প্রমাণ করা হয়েছে যে বাংলা ভাষার শিকড় ২,৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো। মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, “বছরের পর বছর ধরে মোদী সরকার সেই দাবিকে উপেক্ষা করে এসেছে। আজ ভোটের স্বার্থে তারা কৃতিত্ব দাবি করছে।” শাসকদলের আরও অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষায় কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে বাংলা বলা শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা, মারধর, এমনকী পুশব্যাক করার ঘটনাও ঘটেছে। জনগণনার নথিতে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করলেই তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার চক্রান্ত চলে বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল।