বাংলায় কংগ্রেসের হাত ধরতে মরিয়া CPI(M), কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ফের জোটের পক্ষে সওয়াল

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:০৫: ভোট আসছে। নীল বাড়ির লড়াইয়ের আগে ফের এক মঞ্চে আসতে চাইছে বঙ্গ রাজনীতির দুই প্রান্তিক শক্তি বাম ও কংগ্রেস। অন্তত বামেদের ইচ্ছে তেমনই। যদিও কংগ্রেস বার বার একা লড়ার বার্তা দিয়েছে। কেরলের তিরুবনন্তপুরমে CPI(M)-র কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবে তারা। বহু আলাপ-আলোচনা, তর্ক বিতর্কের পর এমন সিদ্ধান্ত হলেও, কংগ্রেস কি ডাকে সাড়া দেবে?
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই একলা চলার কথা বলে আসছেন। এমনকি প্রদেশ কংগ্রেসের জেলা সভাপতিদের ভার্চুয়াল বৈঠকেও একলা চলার পক্ষে ভোট পড়েছে বেশি। যদিও জোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
CPI(M)-র বক্তব্য, অসম ও পুদুচেরিতে তারা কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে লড়াই করতে আগ্রহী। কংগ্রেসের সঙ্গেই তাদের মূল লড়াই হবে কেরলে। তামিলনাড়ুতে শাসক দল ডিএমকে-র সঙ্গে জোট করবে বামেরা। তিরুবনন্তপুরমে তিন দিনের বৈঠকে বাংলায় নির্বাচনী বোঝাপড়া নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। সূত্রের খবর, নেতাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছে জোট নিয়ে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলার নেতাদের একাংশ কংগ্রেসের হাত ধরার পক্ষপাতী নন। তাদের বক্তব্য, ২০১৬ ও ২০২১-র বিধানসভা ভোট এবং ২০১৯ ও ২০২৪-র লোকসভা ভোটে হাত-শিবিরের সঙ্গে জোট করে বামেদের লাভ হয়নি।
২০১৬ সালে বাংলায় প্রথম বাম কংগ্রেস জোট হয়। সেবারই প্রধান বিরোধী শিবিরের তকমা হারায় বামেরা। বামেদের তুলনায় কংগ্রেস প্রায় দ্বিগুণ আসন পায়। ২০১৯-র লোকসভা ভোটে বামেরা একটি আসনও পায়নি বাংলায়। কংগ্রেস দুটি আসনে জয়লাভ করে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বাম এবং কংগ্রেস একটি আসনও দখল করতে পারেনি। সংযুক্ত মোর্চার অধীনে একটি আসন পায় ISF। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে বামেরা বাংলা থেকে একটিও আসন পায়নি। একটি মাত্র আসনে জয় পায় কংগ্রেস।
কংগ্রেসের অন্দরের খবর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বামেদের সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর ইচ্ছাতেই বার বার সিলমোহর দিয়েছিল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের মত একা লড়ার। কংগ্রেস মনে করছে, হাত শিবিরের ভোট ব্যাংকের বেশিরই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। সেই ভোট ফেরাতে বামেদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট এবং সিপিআইএম জোটের কথাবার্তা এগিয়েছে।