মমতার কথার প্রতিধ্বনিই সুপ্রিম নির্দেশে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশের আদেশ কমিশনকে

January 19, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:৩০: বাংলার শাসক দলের কথাই প্রতিধ্বনিত হল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আজ, সোমবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালত জানিয়েছে; শুনানিতে কারও কাছ থেকে নথি গ্রহণ করা হলে তার রসিদও দিতে হবে। বলাবাহুল্য, এই দাবিগুলিই তুলে ধরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কমিশন আগেই জানিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হবে। পরে সংখ্যাটা নেমে আসে ৯৪ লক্ষে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের শুনানির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। মূলত তৃণমূল এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। কোন যুক্তিতে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবিও তুলেছিলেন তিনি। তৃণমূল সাংসদেরা মামলাও করেছিলেন শীর্ষ আদালতে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে।

আদালত জানিয়েছে, কমিশনকে রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। সাধারণ মানুষ সেখানেই নথি জমা দিতে এবং আপত্তি জানাতে পারবেন। নথি জমা নিলে ভোটারকে রসিদ দিতে হবে। লিখিতভাবে নথির প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত আরও জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে রাজ্যকে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, শুনানিতে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। উল্লেখ্য, বিগত সপ্তাহে অ্যাডমিট কার্ডকে নথি হিসাবে গ্রাহ্য না-করার কথা ঘোষণা করে কমিশন। আজ, কমিশনে সে নির্দেশিকা কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়ল। বিএলএ-দের হিয়ারিংয়ে প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় ভোটাররা চাইলে যে কোনও একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তিনি যদি বিএলএ হন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। কার্যত শুনানিতে থাকার অনুমতি পেলেন বিএলএরা। রাজনৈতিক পর্যাবেক্ষকদের মতে বড় জয় পেল তৃণমূল।

 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen