SIR-র নোটিস ঘিরে চরম আতঙ্ক! মালদহে বিষ খেলেন প্রৌঢ়, হরিশ্চন্দ্রপুরে লক্ষাধিক মানুষকে তলব

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:৫০: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR-র নোটিস ঘিরে চরম আতঙ্ক ছড়াল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। নির্বাচন কমিশনের নোটিস পেয়ে দুশ্চিন্তায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন মোমিন আলি (৫৮) নামে এক প্রৌঢ়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। শুধু তাই নয়, ওই একটি বিধানসভা কেন্দ্রেই এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমরাহা এলাকার বাসিন্দা মোমিন আলি। পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁর পুত্রেরা কর্মসূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মোমিন আলির নামে এসআইআর-এর নোটিস আসে। অসুস্থ শরীর এবং ছেলেদের অনুপস্থিতিতে কীভাবে শুনানিতে হাজিরা দেবেন, তা নিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। অভিযোগ, এই আতঙ্কেই সোমবার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই প্রৌঢ়। প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও এখনও তিনি বিপদমুক্ত নন।
এই ঘটনার পরেই ময়দানে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল। খবর পেয়ে হাসপাতালে অসুস্থ প্রৌঢ়কে দেখতে যান মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য বুলবুল খান। তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন। বুলবুল বলেন, ‘‘ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন, আতঙ্কে আত্মহত্যা করছেন, তবুও বিজেপি এবং কমিশনের হুঁশ ফিরছে না।’’ প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিএলও-সহ এখনও পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যুর জন্য পরোক্ষে এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছে শাসকদল।
এদিকে, শুধু মোমিন আলি নন, সোমবার শুনানিকেন্দ্রে হয়রানির জেরে শবনম খাতুন নামে এক মহিলা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক তজমুল হোসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, খোদ মন্ত্রী তজমুল হোসেনকেও হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুরে লক্ষাধিক মানুষের কাছে এই নোটিস পৌঁছনোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে।