ফের প্রাণ কাড়ল SIR, শুনানির নোটিশ পেতেই আত্মঘাতী পুরুলিয়ার আদিবাসী যুবক

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০:৪০: ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র জেরে ডাক এল শুনানির। আতঙ্কে প্রাণ দিলেন পুরুলিয়ার আদিবাসী যুবক। বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাকের জেরে SIR-র শুনানিতে ডাক এসেছিল। আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন পুরুলিয়ার জনজাতি যুবক।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম দেবরাজ ওরাং। তিনি পেশায় গাড়ির চালক। দেবরাজ থাকতেন পুরুলিয়ার মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে। শুনানির নোটিশ পেতেই গ্রামের বাড়ির উঠোনের পাশে আমগাছে মাফলারের ফাঁস লাগিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হন ওই আদিবাসী যুবক। রবিবার রাত আড়াইটা নাগাদ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঝুলন্ত দেহ নামানোর পর সঙ্গে সঙ্গে মানবাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সোমবার দেহের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যায় মানবাজারে ইন্দকুড়ি মোড়ে অ্যাম্বুলেন্সে ওই মৃতদেহ পৌঁছয়।
পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মানবাজারের এক ব্লক কার্যালয়ে তাঁর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি নোটিশ হাতে পান। নোটিশ পেতেই ভেঙে পড়েন দেবরাজ। বাবার থেকে তাঁর বয়সের ফারাক অনেকটাই বেশি। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয় বলে খবর। নোটিশে লেখা ছিল, “পূর্ববর্তী এসআইআর-র সময় প্রস্তুত ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও মিল না-থাকা বা সম্ভবত ভুল মিল থাকার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে আপনি নিম্ন সাক্ষরকারীর সামনে উপস্থিত হন।” মানবাজার এক ব্লক কার্যালয়ে এনআরএলএম হলে শুনানি রয়েছে বলে নোটিশের শেষ অংশে জানানো হয়।
মৃতের বাড়ি মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে হলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে বাঘমুন্ডি থানার বীরগ্রামে থাকতেন। সেখানে গাড়ি চালাতেন। রবিবার নোটিশ আসার পরই তিনি বাড়িতে আসেন। তাঁর দাদা রমেশ ওরাং বলেন, নোটিশ আসার পর ভাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। মনে করছিল পরিবারের থেকে তাঁকে আলাদা করে দেবে। সবাই বোঝালেও কাজ হয়নি। তাঁর মরদেহে মালা দেন রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, আদিবাসী নেতা গুরুপদ টুডু প্রমুখ। মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, “এসআইআর-র কারণে আমাদের জেলায় দু’জনের মৃত্যু হল। নির্বাচন কমিশন এর জন্য দায়ী। কমিশন বিজেপির কথা মতো কাজ করছে।”