ইন্দোরে ভিক্ষুকমুক্ত অভিযানে চাঞ্চল্য, ভিখারি পরিচয়ে ধরা পড়ল এক কোটিপতি

January 20, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:৩৫:  ইন্দোরকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ করার অভিযানে সম্প্রতি সামনে এল এক চমকে দেওয়া ঘটনা। শহরের রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে যাকে সবাই ভিখারি বলে মনে করত, সেই রোগা, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির আসল পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনও কার্যত হতবাক। লোহার একটি ঠেলা গাড়ি ঠেলে, হাত জুতোর ভিতরে লুকিয়ে চলাফেরা করা এই ব্যক্তি আদতে একজন কোটিপতি।

ব্যক্তির নাম মঙ্গিলাল। তিনি দাবি করেছেন, কখনও সরাসরি ভিক্ষা চাননি। ব্যস্ত রাস্তায় ঠেলা গাড়ি ঠেলে চলার সময় পথচারীরাই তাঁকে সহানুভূতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা দিত। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, এইভাবেই প্রতিদিন তাঁর আয় হতো প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে মধ্যপ্রদেশের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের একটি দল তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে। তাতে জানা যায়, মঙ্গিলালের নামে ভগত সিং নগরে একটি তিনতলা বাড়ি, শিব নগরে ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি এবং অলওয়াসায় একটি এক কামরার ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় রেড ক্রস সোসাইটির মাধ্যমে ওই ফ্ল্যাটটি পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর মালিকানায় রয়েছে তিনটি অটো-রিকশা, যেগুলি ভাড়ায় চলে, এবং একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি—যার জন্য একজন বেতনভুক চালকও নিযুক্ত।

জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন, তিনি উচ্চ সুদে টাকা ধার দিতেন এবং প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা আদায় করতেন। প্রশাসন তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও নগদ টাকার হিসেব নথিভুক্ত করেছে। ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাঁকে জেলা কালেক্টরের সামনে পেশ করা হবে—বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, আগে থেকেই সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি পিএমএওয়াই-এর ঘর পেলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্দোরেভিক্ষুক নির্মূলের কাজ শুরু হয়েছে। গত দু’বছরে ৬,৫০০-র বেশি ভিক্ষুককে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে জেলাশাসক আশিস সিং জানান, প্রায় ৫,০০০ জনকে ইতিমধ্যেই পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে শাস্তির বদলে পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ১৭০-র বেশি উদ্ধার হওয়া শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে, আর প্রাপ্তবয়স্কদের দেওয়া হয়েছে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান। এই মানবিক মডেল ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সমাজকল্যাণ মন্ত্রক ও বিশ্বব্যাঙ্কের স্বীকৃতি পেয়েছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen