ডিভোর্স ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে! বিস্ফোরক BJP বিধায়ক হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:৪৫: খড়্গপুরের বিজেপি (BJP) বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের (Hiraan Chatterjee) দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে এবার সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুললেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তাঁর সাফ দাবি, “আমাদের ডিভোর্সই হয়নি, তাই এই বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি।”
হিরণের স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্যে তাঁদের ১৯ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তিনি জানান, কোনওদিন তাঁদের মধ্যে আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি। তা সত্ত্বেও হিরণ কীভাবে অন্য একজনকে বিয়ে করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিস্ফোরক এই বয়ানে বিধায়কের স্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ও তাঁর মেয়ে মানসিক অত্যাচারের শিকার। পরিবারের সম্মান ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এতদিন তিনি চুপ ছিলেন। নিজের শাড়ি ও ক্যাফে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থেকে নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “সবাই ভাবেন মারধর করাই অত্যাচার। কিন্তু আমরা যে কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা বলে বোঝানো যাবে না।”
প্রথম পক্ষের স্ত্রীর দাবি, হিরণ মাঝে মাঝেই তাঁদের কলকাতার বাইপাসের ফ্ল্যাটে আসতেন। এমনকি ২০২৫ সালের নতুন বছরের উদ্যাপনও তাঁরা একসঙ্গেই করেছেন। মাসখানেক আগেও হিরণ মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। হিরণের এই নতুন সম্পর্কের কথা তিনি আগে শুনলেও, হিরণ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ওই তরুণী নাকি তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁদের ১৯ বছরের কন্যার মানসিক অবস্থা নিয়ে। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী ওই তরুণীর মনে বাবার এই আচরণ গভীর প্রভাব ফেলছে বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁদের মেয়েরই প্রায় সমবয়সী হওয়ায় বিষয়টি আরও ‘কুৎসিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের চাপা থাকা যন্ত্রণা থেকেই এবার আইনি পথে লড়াই বা প্রতিবাদে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপি বিধায়কের প্রথম স্ত্রী।
উল্লেখ্য, এই বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর প্রথম স্ত্রীর এই বয়ান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন হিরণের প্রথম স্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে গত কয়েক বছরের মানসিক যন্ত্রণা, প্রতারণা এবং তাঁদের ১৯ বছরের কন্যার ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তার কথা। দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে অনিন্দিতা জানান, “আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এটা দেখার পর প্রথম আমার মেয়ের মুখটাই ভেসে উঠেছে। আর আমার মনে হয়েছে যে ওকে কীভাবে প্রটেক্ট করব? মানে, ইমোশনাল ড্যামেজগুলো তো চোখে দেখা যায় না, সেগুলো শুধু অনুভব করা যায়।”
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রী জানান, “আমরা আগেও জানতাম মানে কানাঘুসো শুনতাম, এতোটা ড্রাফটিক আমি এই রকম কিছু একটা আশা করিনি। আমার মেয়েকে ফিরে দেখলাম, আমার মেয়ের চোখগুলো ফুলে আছে, ও কথা বলতে পারছে না।”
দাম্পত্যের ভাঙন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “২-৩ বছর আগে থেকে। তারপর কিন্তু ও ক্ষমা টমা চেয়ে আমি এগুলো ভুল করেছি। মেয়েটা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে বলে ও কিন্তু আমাদের সাথে থাকত কিন্তু। তার সমস্ত প্রমাণ আছে। আমরা ব্যাঙ্কক বেড়াতে গিয়েছি। তার ছবি আছে। তারপর আবার সেই একই। খড়গপুরে যাওয়া মানেই ওর সাথে… তারপর যখন জানলাম, তখন মনে হয়েছে এটা আমি ভুলই করেছি। এটাকে শেষ করাই উচিত ছিল।”
হিরণের এই দুঃসাহস নিয়ে তাঁর স্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, “কেউ দেখবে না ভেবেই কি এমন করেছে? সাধারণত মানুষ কিছু জিনিস লুকিয়ে করে, কিছু জিনিস লুকিয়ে করতে হয়, বউয়ের একটা সম্মান থাকে, সন্তানের একটা সম্মান থাকে। ইনি যেটা বুক ফুলিয়ে করছিলেন। প্রকাশ্যে করছিলেন যে দেখ আমার এতো পাওয়ার আছে, তুই কী করবি করে নে। সেটা ছাড়া আর কিছুই নয়। না হলে এরকম সাহস আর সাধারণ মানুষের হয় না।”
বিধায়কের ১৯ বছরের কন্যা বর্তমানে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। হিরণ যাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তিনি কন্যার চেয়ে মাত্র ২ বছরের বড়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি আমার মেয়ের চেয়ে মাত্র দু-বছরের বড়। সেটাই সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার, অবাক করার ব্যাপার।”
হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং এখনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, “আমি কী করব? আমি সবাইকে তা-ই বলছি যে, আইনজীবীরা যেভাবে আমাকে গাইড করবেন, আমি তা-ই করব।”
মেয়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ভীষণ, আমি বারবার সবাইকে বলি। মেন্টাল হেলথ নিয়ে আমি নিজেও খুব সচেতন। যে মনের ভেতরের ব্যাপারগুলো বাইরের থেকে দেখা যায় না, কেউ মারলে দেখা যায়, ভিতরের মারটা দাগটা দেখা যায় না। সেটা তো ক’দিন আগেই আপনারা দেখেছেন। সারাক্ষণ হাসিখুশি ব্লগ দেখাচ্ছে তারপরেই একটা.. ভিতরের ড্যামেজগুলো অভাবে বোঝা যায় না। আমি আমার মেয়েকে নিজের জীবন দিয়ে চেষ্টা করি ওকে বাঁচিয়ে রাখতে, আগলে রাখতে। সেটা তো বাবা হিসেবে বাবারও দায়িত্ব ছিল। বাবা যখন এরকম কুলাঙ্গার বাবা, আর কী করা যাতে পারে বলো। খুব দুঃখিত। আমরা বাবা-মা তো আর নিজে চয়েস করি না। এগুলো আমাদের ভাগ্যবশে আমরা পাই। তিয়াশা আর আমার দুজনেরই দুর্ভাগ্য।”