ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দূর করতে সুপ্রিম নির্দেশ, বাড়ছে শুনানির সময়সীমা?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২২:৩০: রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের জেরে এবার শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি করার কথা ভাবছে কমিশন। এর ফলে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, বর্তমানে শুনানির শেষ দিন ধার্য রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশিকা পালন করতে গেলে এই সময়সীমায় কাজ শেষ করা অসম্ভব। বুধবার এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করতে পারে কমিশন।
সুপ্রিম কোর্টের ১০ দফা গাইডলাইন:
সোমবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। নির্দেশিকার প্রধান দিকগুলি হলো:
১. তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড অফিসগুলিতে এমনভাবে টাঙাতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে দেখতে পান।
২. ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা নিজে উপস্থিত হতে না পারলে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ দিন ধরে বিএলএ-দের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
৩. তালিকা প্রকাশের দিন থেকে নতুন করে দাবি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দিতে হবে।
৪. শুনানির সময় সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির থাকার সুযোগ দিতে হবে। নথি গ্রহণের ক্ষেত্রে রসিদ বা প্রাপ্তি স্বীকার নিশ্চিত করতে হবে। বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হবে।
৫. গোটা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের। কোনওভাবেই যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, তা দেখতে বলা হয়েছে রাজ্যের ডিজিপি-কেও।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির আওতায় রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন ‘ম্যাপড’ এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটাররা।
এত বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য বর্তমান সময়সীমা যে পর্যাপ্ত নয়, তা কার্যত মেনে নিচ্ছে কমিশন। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা কয়েক দিন বা সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, বুধবার কমিশনের নির্দেশিকায় সময়সীমা নিয়ে কী ঘোষণা করা হয়।