‘ভারতীয় জুমলা পার্টিকে ৫০-র গন্ডি পার করতে দেব না’, পুরুলিয়ায় ৯-০ লক্ষ্যের ডাক অভিষেকের

January 21, 2026 | 4 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:২৫: পাখির চোখ ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচন। পুরুলিয়ার কাশীপুরের ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘‘ভারতীয় জুমলা পার্টিকে ৫০-এর গণ্ডি পার করতে দেব না, কথা দিয়ে গেলাম।’’ একইসঙ্গে পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন তিনি।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে ৯-০ করতে হবে। পুরুলিয়ার আসন সংখ্যা হাওড়া আর দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘৩৪ বছরের বাম জমানার সিপিএমের হার্মাদরাই এখন জার্সি বদলে বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।’’

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, ‘‘জল জীবন মিশন, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা ও সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা আটকে রেখেছে মোদী সরকার। জল জীবন মিশনের ৫০ শতাংশ টাকা কেন্দ্র দেয়, সেটাও তারা আটকে রেখেছে।’’ স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। ১০-০ গোলে ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে পাঠাব।’’

বাংলা ভাষা ও বাঙালি বিদ্বেষ নিয়ে বিজেপিকে বিঁধে অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি? জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সুকান্ত মজুমদার বা শুভেন্দু অধিকারীরা কোন ভাষায় কথা বলেন?’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমার মাটি সইবে না, ইউপি-বিহার হইবে না।’’

রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ জানান, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো জঙ্গলমহলে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরানো। ২০১০ সালের ঝালদার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘মমতা না থাকলে মাওবাদী আর সিপিএমের ব্যোম-বন্দুকের নিচেই থাকতে হতো।’’ তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যের ২০ লক্ষ মানুষের বাড়িতে আবাসের টাকা পৌঁছে যাবে। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আয়ুষ্মান ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘যাদের পাকা ছাদ বা স্মার্ট ফোন আছে তারা আয়ুষ্মান ভারত পাবেন না, কিন্তু স্বাস্থ্যসাথী সবাই পাবেন।’’

সম্প্রতি ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের স্বস্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ মাথা নত করেনি। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল মামলা করেছিল, আজ বাংলার মানুষের জয় হয়েছে।’’

কাশীপুরের সভা থেকে রেলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন অভিষেক। তিনি জানান, ২০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি দিল্লিতে গিয়ে রেলমন্ত্রকের কাছে দরবার করবেন। সবশেষে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাঁর স্লোগান, ‘‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।’’ ২০২৬-র নির্বাচনকে ‘প্রতিবাদ, প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে পুরুলিয়াবাসীকে সব দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

এদিন কাশীপুরের ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে একাধারে তিনি যেমন সিপিএম-বিজেপি আঁতাত নিয়ে সরব হলেন, তেমনই স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানালেন।

কাশীপুরের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে অভিষেক পুরুলিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালের উপমা টানেন। তিনি বলেন, ‘‘লাল মানে থমকে যাওয়া, গেরুয়া মানে ধীরে চলা, আর সবুজ মানে এগিয়ে যাওয়া। ৩৪ বছর এই জেলা লাল ছিল, তারপর সবুজ হয়ে উন্নয়নের রথ ছুটছিল। কিন্তু বিজেপির ‘জল্লাদ’রা মাথাচাড়া দেওয়ায় সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, একসময় যারা সিপিএম-এর ‘হার্মাদ’ ছিল, তারাই আজ জার্সি বদলে বিজেপিতে গিয়ে ‘জল্লাদ’ হয়েছে। সুবিনয় মুখার্জী, নাড়ুগোপাল বাউড়ী থেকে নরহরি মাহাতর মতো একদা বামপন্থী নেতাদের নাম করে তিনি বলেন, ‘‘এরা ১০ বছর ধরে পুরুলিয়াকে বঞ্চিত করে রেখেছে।’’

পুরুলিয়ার অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘২০১১ সালের আগে বিকেল ৩টের পর পুরুলিয়া শহর থেকে বলরামপুর বা বাঘমুণ্ডিতে কেউ যাতায়াত করতে পারত না। পুলিশও ভয়ে থানা থেকে বেরোত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে এনেছেন।’’ তবে ২০১৮ সালের অশান্তি এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিজেপির উত্থানের প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৯টির মধ্যে ৬টি বিধানসভায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকাকে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। অভিষেকের বার্তা, ‘‘আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়ায় ৯-০ ফল হলে আপনাদের আইটিআই, কোল্ড স্টোরেজ বা হাসপাতালের সব দাবি পূরণের দায়ভার আমার।’’

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং স্থানীয় সাংসদের ভূমিকা নিয়েও এদিন সুর চড়ান অভিষেক। বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনি আপনার ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন, আমি আমাদের ১৫ বছরের কাজের হিসাব নিয়ে আসব। ১০-০ গোলে ‘ভোকাট্টা’ করে মাঠের বাইরে পাঠাব।’’ আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা এবং রেল পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

‘আয়ুষ্মান ভারত’ বনাম ‘স্বাস্থ্যসাথী’র তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বাড়িতে স্মার্টফোন বা পাকা ছাদ থাকলে সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু মমতার স্বাস্থ্যসাথীতে কোনও শর্ত নেই। ৫ লক্ষ টাকার বিমা সবাই পান।’’

ভাষাগত বিভাজন এবং ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধেও এদিন কড়া বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘রামের নাম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, অযোধ্যাতেই তারা হেরেছে। প্রভু রামচন্দ্র ত্যাগের প্রতীক, কিন্তু বিজেপি বিভাজনের প্রতীক।’’ সভার শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা, ‘‘নির্বাচনের সময় ওরা টাকা দিতে এলে নিয়ে নেবেন, কিন্তু ভোটটা দেবেন জোড়াফুলে। যাতে ব্যালট বাক্স খুললে ওরা চোখে ‘সর্ষে ফুল’ দেখে।’’

এদিন কাশীপুরের ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে একাধারে তিনি যেমন সিপিএম-বিজেপি আঁতাত নিয়ে সরব হলেন, তেমনই স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানালেন।

কাশীপুরের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে অভিষেক পুরুলিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালের উপমা টানেন। তিনি বলেন, ‘‘লাল মানে থমকে যাওয়া, গেরুয়া মানে ধীরে চলা, আর সবুজ মানে এগিয়ে যাওয়া। ৩৪ বছর এই জেলা লাল ছিল, তারপর সবুজ হয়ে উন্নয়নের রথ ছুটছিল। কিন্তু বিজেপির ‘জল্লাদ’রা মাথাচাড়া দেওয়ায় সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, একসময় যারা সিপিএম-এর ‘হার্মাদ’ ছিল, তারাই আজ জার্সি বদলে বিজেপিতে গিয়ে ‘জল্লাদ’ হয়েছে। সুবিনয় মুখার্জী, নাড়ুগোপাল বাউড়ী থেকে নরহরি মাহাতর মতো একদা বামপন্থী নেতাদের নাম করে তিনি বলেন, ‘‘এরা ১০ বছর ধরে পুরুলিয়াকে বঞ্চিত করে রেখেছে।’’

পুরুলিয়ার অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘২০১১ সালের আগে বিকেল ৩টের পর পুরুলিয়া শহর থেকে বলরামপুর বা বাঘমুণ্ডিতে কেউ যাতায়াত করতে পারত না। পুলিশও ভয়ে থানা থেকে বেরোত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে এনেছেন।’’ তবে ২০১৮ সালের অশান্তি এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিজেপির উত্থানের প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৯টির মধ্যে ৬টি বিধানসভায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকাকে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। অভিষেকের বার্তা, ‘‘আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়ায় ৯-০ ফল হলে আপনাদের আইটিআই, কোল্ড স্টোরেজ বা হাসপাতালের সব দাবি পূরণের দায়ভার আমার।’’

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং স্থানীয় সাংসদের ভূমিকা নিয়েও এদিন সুর চড়ান অভিষেক। বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনি আপনার ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন, আমি আমাদের ১৫ বছরের কাজের হিসাব নিয়ে আসব। ১০-০ গোলে ‘ভোকাট্টা’ করে মাঠের বাইরে পাঠাব।’’ আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা এবং রেল পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

‘আয়ুষ্মান ভারত’ বনাম ‘স্বাস্থ্যসাথী’র তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বাড়িতে স্মার্টফোন বা পাকা ছাদ থাকলে সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু মমতার স্বাস্থ্যসাথীতে কোনও শর্ত নেই। ৫ লক্ষ টাকার বিমা সবাই পান।’’

ভাষাগত বিভাজন এবং ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধেও এদিন কড়া বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘রামের নাম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, অযোধ্যাতেই তারা হেরেছে। প্রভু রামচন্দ্র ত্যাগের প্রতীক, কিন্তু বিজেপি বিভাজনের প্রতীক।’’ সভার শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা, ‘‘নির্বাচনের সময় ওরা টাকা দিতে এলে নিয়ে নেবেন, কিন্তু ভোটটা দেবেন জোড়াফুলে। যাতে ব্যালট বাক্স খুললে ওরা চোখে ‘সর্ষে ফুল’ দেখে।’’

 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen