‘অপরাধী নয়, ধরা পড়ছেন সাক্ষীরাই’, নন্দীগ্রাম মামলায় CBI ও শুভেন্দুকে নিশানা তৃণমূলের
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:১৭: নন্দীগ্রামের গণধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসকদলের গুরুতর অভিযোগ, আসল অপরাধীদের আড়াল করতে CBI-কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার বদলে মামলার সাক্ষীদেরই গ্রেপ্তার করছে বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। এই ইস্যুতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকেও (Suvendu Adhikari) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তারা।
বুধবার নন্দীগ্রামের (Nandigram) রেয়াপাড়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায়। তাঁর দাবি, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই বেছে বেছে সাক্ষীদের নিশানা করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় গোকুলনগরে মা ও দুই মেয়েকে গণধর্ষণের যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, তার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত কালীপদ গানি, রাজু গানি, অনুকুল শিটরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সিবিআই তাঁদের টিকিও ছুঁতে পারছে না। কারণ হিসেবে শাসকদল দাবি করেছে, অভিযুক্তরা বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং বিরোধী দলনেতার ছত্রছায়ায় রয়েছেন।
উল্টোদিকে, এই মামলার এক বয়স্ক মহিলা সাক্ষীকে সম্প্রতি দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। সুজিত রায় অভিযোগ করেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই বয়স্ক সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিতে পারছিলেন না। অথচ সিবিআই অপরাধীদের না ধরে সেই অসুস্থ নিরপরাধ মানুষটিকেই গ্রেপ্তার করল। এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।”
একসময়ের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির মুখ শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়েও এদিন সরব হয় তৃণমূল। সুজিত রায়ের কথায়, “যিনি একসময় এই আন্দোলনের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, আজ তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে সেই মামলার সাক্ষীদের হেনস্থা হতে হচ্ছে।” তৃণমূলের প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারী কিছু বললেই দেখা যায় সিবিআই তৎপর হয়, কিন্তু আজ যখন এক অসুস্থ বৃদ্ধা সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হলো, তখন তিনি নীরব কেন?
তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রাম গণধর্ষণ মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচাতে বিজেপি ও সিবিআইয়ের মধ্যে যোগসাজশ স্পষ্ট। সুজিত রায় বলেন, “সিবিআই-কে দিয়ে বিজেপি বেছে বেছে সাক্ষীদের ভয় দেখাচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করাচ্ছে, যাতে আসল সত্য চাপা পড়ে যায়।”