বন্দে ভারত স্লিপারে শুধুই নিরামিষ! হাওড়া-কামাখ্যা রুটে ‘মেনু’ ঘিরে দানা বাঁধছে বিতর্ক
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:১৭: দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস (Vande Bharat Sleeper) পেল পশ্চিমবঙ্গ ও অসম। কিন্তু যাত্রাপথ শুরুর আগেই ট্রেনের খাবারের মেনু ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। হাওড়া থেকে কামাখ্যাগামী এই প্রিমিয়াম ট্রেনে যাত্রীদের জন্য আমিষ খাবারের কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইটে টিকিট কাটার সময় খাবারের তালিকায় শুধুই দেখাচ্ছে ‘ভেজ’ বা নিরামিষ অপশন। ভোজনরসিক বাঙালি বা অসমীয়া যাত্রীদের পাতে মাছ বা মাংসের কোনো পদ থাকছে না, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য চাকা ঘুরবে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের। সপ্তাহে ছয় দিন হাওড়া ও কামাখ্যার মধ্যে চলাচল করবে এই ট্রেন। ট্রেনের গতি এবং অন্দরসজ্জা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ থাকলেও, খাবারের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই অনেকে হতাশ। সাধারণত দূরপাল্লার ট্রেনে আমিষ হোক বা নিরামিষ (veg food), সব খাবারের বিকল্প থাকে। কিন্তু এই রুটে কেন শুধুই নিরামিষ খাবার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই জানিয়েছিলেন, বন্দে ভারত স্লিপার ক্লাসের মেনুতে স্থানীয় খাবারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে থাকছে বাসন্তী পোলাও, ছোলার বা মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ এবং রসগোল্লা। অন্যদিকে, কামাখ্যা থেকে ফেরার পথে মেনুতে প্রাধান্য পাবে অসমের স্থানীয় স্বাদ। সেখানে থাকছে সুগন্ধি জোহা চালের ভাত, মাটি মাহর ডালি, মুসুর ডাল, মরসুমি সবজি ভাজা এবং নারকেলের বরফি। এছাড়া চা-কফির ব্যবস্থাও থাকছে। রেলের যুক্তি, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার তুলে ধরতেই এই আয়োজন। তবে যাত্রীরা চাইলে ট্রেন থেকে আলাদা করে খাবার কিনে খেতে পারবেন।
এদিকে, এই নিরামিষ মেনু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাদানুবাদ। বিষয়টিকে ‘খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘বাংলায় এসে এই ট্রেন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি বাঙালির মাছ-ভাতের থালার ওপর বন্দে ভারত চালাতে চাইছে। এর পাল্টা হিসেবে বাংলার মানুষ বিধানসভা ভোটে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দিয়ে ‘আন্দোলন লোকাল’ চালাবে।’’ প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সিঙ্গুর আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিতে ‘আন্দোলন লোকাল’ চালু করেছিলেন।
IRCTC-র এক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘‘বন্দে ভারত স্লিপার ক্লাসে আমরা স্থানীয় খাবারের ওপর জোর দিচ্ছি। যে এলাকায় যে খাবার বিখ্যাত, সেই খাবার পরিবেশন করা হবে।’’ তবে আমিষ খাবার কেন বাদ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দেননি।
ট্রেনটির সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে বন্দে ভারত স্লিপার পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কামাখ্যায় পৌঁছাবে। ফিরতি পথে কামাখ্যা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় আসবে ট্রেনটি। গতি ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিচারে এই ট্রেন যাত্রীদের মন জয় করতে পারলেও, খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।