নজিরবিহীন! মহকুমা শাসকের অফিসে শুনানির লাইনে ভিক্ষা চাইলেন চন্দননগরের বৃদ্ধা

January 22, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:৩৫: সরকারি নোটিস মেনে হাজিরা দিতে এসেছেন, কিন্তু চিন্তায় ঘুম নেই। আজ ভিক্ষা না করলে যে বাড়িতে হাড়ি চড়বে না! এমনই এক মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল হুগলির চন্দননগর মহকুমা শাসকের দপ্তর। এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে শেষমেশ মহকুমা শাসকের দপ্তরে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েই ভিক্ষা করলেন এক বৃদ্ধা। তাঁর সাফ কথা, ‘‘শুনানিতে এসে দিন নষ্ট হলে আমার চলবে কী ভাবে?’’ বৃহস্পতিবার এই নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হুগলির চন্দননগর মহকুমা শাসকের দপ্তর।

জানা গিয়েছে, চন্দননগর মহকুমাশাসকের অফিসের বাইরে এদিন এসআইআর (SIR)-এর শুনানির জন্য লম্বা লাইন ছিল। নানা বয়সের মানুষ নিজেদের নথিপত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই অশক্ত শরীর নিয়ে হাতে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে হাজির হন পারুল বন্দ্যোপাধ্যায় (Parul Banerjee)। তবে শুধু শুনানির জন্য নয়, নিজের পেটের ভাতের জোগাড় করতে লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলোর কাছেই হাত পাততে দেখা যায় তাঁকে।

বৃদ্ধা পারুল বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দননগর-২ ব্লকের নিরঞ্জন নগর এলাকার বাসিন্দা। স্বামী মারা গিয়েছেন। বাড়িতে বেকার মেয়ে ও নাতি রয়েছে। পারুল দেবী জানান, আগে তিনি বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে তাঁর একটি হাত ভেঙে যায়। সেই হাড় আর ভালোমতো জোড়া লাগেনি। ফলে একটি হাত প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে। কাজ করার ক্ষমতা হারান তিনি। মেয়েও আগে আয়ার কাজ করতেন। বর্তমানে তিনিও কর্মহীন। ফলে বৃদ্ধার ভিক্ষার রোজগারেই কোনওক্রমে চলে সংসার।

লাইনের মাঝে দাঁড়িয়ে আক্ষেপের সুরে বৃদ্ধা বলেন, ‘‘এত দিন ভোট দিচ্ছি, তার পরেও আমাকে ডেকেছে। শুনানিতে সময় নষ্ট হলেও কাউকে কিছু বলার নেই। কিন্তু ভাঙা হাতে কাজ করতে পারি না, চেয়েচিন্তে সংসার চলে। আজ কাজ কামাই করে এসেছি, তাই এখানেই হাত পাতলাম।’’

বৃদ্ধার দাবি, ১৯৭২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। তাঁর কাছে প্রতিবন্ধী কার্ডও রয়েছে। তবুও কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়িতে শুনানির নোটিস পৌঁছয়। সরকারি নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাননি, তাই বৃহস্পতিবার চন্দননগর মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হন। কিন্তু তাঁর চিন্তা, শুনানির জন্য এই যে একটা দিন নষ্ট হলো, তাতে তাঁর সংসারের হাড়ি চড়বে কী করে? রোজগার বন্ধ হওয়ার ভয়েই তাই শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইলেন তিনি।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen