২০ লক্ষ মহিলাকে স্বনির্ভর করতে উদ্যোগী রাজ্য

সরকারি আধিকারিকদের মতে, করোনার কারণে গ্রামীণ এলাকায় জীবন-জীবিকার উপর ভালোই প্রভাব পড়েছে। গৃহিণীদের যদি এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলা যায় সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর পরিবারের হয়ে ব্যবসা করে রোজগার করতে পারবেন।

July 14, 2021 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) চান, আরও বেশি করে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা হোক। তাঁরা আর্থিকভাবে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। মহিলারা স্বনির্ভর হলে সেই পরিবারও আর্থিকভাবে সক্ষম হবে বলে মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যেই বেশি সংখ্যক মহিলাকে স্বনির্ভর করে তুলতে অন্তত দু’লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group) গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিল রাজ্য সরকার। সাধারণত একটি গোষ্ঠীতে ন্যূনতম দশজন সদস্য থাকেন। সেই হিসেবে অন্তত ২০ লক্ষ মহিলা এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সব জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসারদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদি। তিনি আরও স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলার নির্দেশ দেন জেলাশাসকদের।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, করোনার কারণে গ্রামীণ এলাকায় জীবন-জীবিকার উপর ভালোই প্রভাব পড়েছে। গৃহিণীদের যদি এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলা যায় সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর পরিবারের হয়ে ব্যবসা করে রোজগার করতে পারবেন। রাজ্যে ৮ লক্ষ ৭৭ হাজারের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। সদস্য সংখ্যা ৯১ লক্ষাধিক। সংখ্যাটি আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কোন জেলায় কত সংখ্যক স্বনির্ভর গোষ্ঠী বাড়াতে হবে সেটাও স্থির করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক এই স্বনির্ভর গোষ্ঠী বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে দুই ২৪ পরগনাকে। ২২ হাজার করে। এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সর্বাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। সদস্য সংখ্যার বিচারে মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ  ২৪ পরগনার ধারেকাছে কেউ নেই। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পংকে সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। সেই সংখ্যা হল ৫০০ করে।

নবান্ন থেকে জেলাগুলিতে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করার ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি ও উপজাতির পরিবারগুলির উপর বাড়তি নজর দিতে হবে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে একটি পোর্টাল তৈরি করা হবে, যেখানে এই স্বনির্ভর গোষ্ঠী মহিলাদের কার্যকলাপ, গঠন ও অন্যান্য কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে সবটাই পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এই দপ্তর‌ই মূলত এই প্রক্রিয়ার নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করবে। এমনিতেই জেলায় জেলায় মহিলাদের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি অর্থনীতির চাকা অনেকটাই ঘুরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখনও বহু মহিলাকে এই গোষ্ঠীর আওতায় আনা যায়নি। তাই এটাকে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার উল্লেখযোগ্য প্রয়াস বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এরজন্য প্রয়োজনে ব্লক স্তরে প্রচার করবে প্রশাসন। 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen