ভিনরাজ্যে ফের বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু, এবার উত্তরপ্রদেশে প্রাণ হারালেন সিঙ্গুরের যুবক

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:০৫: মুর্শিদাবাদের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হুগলি (Hooghly)। ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে ফের মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant workers)। এবার ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)। মৃতের বাড়ি হুগলির সিঙ্গুরে। পরপর এই মৃত্যুর ঘটনায় ভিন্ন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, মৃত ওই শ্রমিকের নাম শেখ সইদুল্লা (Sheikh Saidullah)। তিনি হুগলি জেলার সিঙ্গুরের দেওয়ানভেড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি উত্তরপ্রদেশে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ইতিমধ্যেই শেখ সইদুল্লার মরদেহ গ্রামে এসে পৌঁছেছে। তাঁর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, ঝাড়খণ্ডেও বাংলার এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার সুজাপুর-তাতলাপাড়া গ্রামে। পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। সেখানে বাঙালি এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বেলডাঙার সুজাপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচলে ব্যাপক জট সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের আঁচ পৌঁছায় রেলপথেও। বেলডাঙা স্টেশনে রেল অবরোধের জেরে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা অবরোধ চালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর মিছিল এখানেই থামছে না। এর আগে চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার আমাই মাঝি (২৮) নামের এক যুবকের। গাম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা আমাই ২০২৫-এর দুর্গাপুজোর সময় চেন্নাইয়ের তাম্বারামে কাজে গিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে সেখান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে অথৈ জলে পড়েছে আমাইয়ের স্ত্রী, তিন সন্তান ও বৃদ্ধা মা। এমনকি দেহ ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে ব্যবস্থা করেন।