৩৪৩ জন জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা! BLO-র অভিযোগে তমলুকে গ্রেপ্তার BJP কর্মী

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:৩৫: গণহারে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার চেষ্টা! তমলুকে হাতেনাতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত। শতাধিক জীবিত ও যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চেয়ে ‘৭ নম্বর ফর্ম’ জমা দেওয়ার অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে এক বিজেপি (BJP) কর্মীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম অমিত মণ্ডল। তিনি তমলুকের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পিতুলসাহা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ উঠেছে, তমলুকের পদুমবসান এলাকার ২৪২ নম্বর বুথের মোট ৩৪৩ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিয়েছিলেন অমিত মণ্ডল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই তালিকার মধ্যে ছিল খোদ ওই বুথের বিএলও (BLO) আসফাক আলি বেগের পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও। আসফাক আলি জানতে পারেন যে, তাঁর মা, ভাই ও বোনের মতো যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর পরেই তিনি বিষয়টি প্রশাসনকে জানান এবং তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অমিত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাঁকে তমলুক আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিএলও (BLO) আসফাক আলি বেগ বলেন, “বিশেষ সূত্র থেকে জানতে পারি যে আমার মা, ভাই ও বোনের নামে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁরা সকলেই এলাকার নিয়মিত বাসিন্দা এবং যোগ্য ভোটার। বিষয়টি জানার পরেই আমি থানায় অভিযোগ জানাই। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক।”
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে কোনো নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের জন্য ৭ নম্বর ফর্ম ব্যবহার করা হয়। মূলত তিনটি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়– ১. ভোটার তালিকায় কারোর নাম তোলার বিষয়ে আপত্তি থাকলে, ২. নিজের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইলে এবং ৩. অন্য কারোর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে চাইলে। তবে তৃতীয় ক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হয় মৃত হতে হবে অথবা স্থায়ীভাবে ওই এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হতে হবে।