সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার জয়রথ অব্যাহত, শেষ মুহূর্তের গোলে উত্তরাখণ্ডকে হারাল বঙ্গ ব্রিগেড

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮.৩০: সন্তোষ ট্রফির (Santosh Trophy) মূলপর্বে বাংলার জয়রথ অব্যাহত। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার গোলের দাপুটে জয়ের পর, এবার উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধেও জয় ছিনিয়ে নিল বঙ্গ ব্রিগেড। কোচ সঞ্জয় সেনের চাণক্যনীতি এবং শেষ মুহূর্তে নরহরি শ্রেষ্ঠার বিশ্বমানের গোলে ১-০ ব্যবধানে উত্তরাখণ্ডকে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট ঘরে তুলল বাংলা।
নাগাল্যান্ড ম্যাচের হিরো উত্তম হাঁসদা গোড়ালির চোটের কারণে এদিনের ম্যাচে ছিলেন না। ফুটবল মহলের ধারণা ছিল, অভিজ্ঞ নরহরি শ্রেষ্ঠা শুরু থেকেই মাঠে থাকবেন। কিন্তু সেখানেই চমক দেন কোচ সঞ্জয় সেন। তুরুপের তাস নরহরিকে প্রথম একাদশে না রেখে, দ্বিতীয়ার্ধে ‘সুপার সাব’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন তিনি। কোচের এই একচালেই শেষমেশ বাজিমাত করল বাংলা।
ম্যাচে নামার আগে বাংলার সামনে প্রতিপক্ষ ছাড়াও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্লান্তি। হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের পাঁচ ঘণ্টার ধকল সামলে মাঠে নামতে হয়েছিল ফুটবলারদের। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের লম্বা থ্রো এবং ‘ধ্বংসাত্মক’ ফুটবল নিয়েও সতর্ক ছিল বাংলা। আগের ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করে কোচ ছেলেদের তৈরি করেছিলেন নিজেদের বক্সে অহেতুক ফাউল না করতে এবং লম্বা থ্রোয়ের সময় সতর্ক থাকতে।
মাঠে নেমে অবশ্য কড়া টক্কর দেয় উত্তরাখণ্ড। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারলেও, বাংলার বিরুদ্ধে যথেষ্ট উজ্জীবিত ফুটবল খেলে তারা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা মিলছিল না। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ডেডলক ভাঙতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আর্বিভাব নরহরির। সংযুক্তি সময়ে (৯০+৬ মিনিট) পরিবর্ত হিসেবে নামা নরহরি এক বিশ্বমানের গোলে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলা শিবির। প্রথম ম্যাচের ক্লান্তি আর প্রতিপক্ষের কড়া রক্ষণ। সব বাধা টপকে সঞ্জয় সেনের মগজাস্থ্রে ভর করে সন্তোষ ট্রফিতে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বাংলা।