মমতাকে ভোট দেওয়ার শাস্তি, বেধড়ক মার, গায়ে পেট্রল ঢেলে বাঙালি ফেরিওয়ালাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বিহারে

January 5, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:০০: আবারও ডবল ইঞ্জিন বিহারে বাঙালিকে আক্রমণ। অভিযোগ, ‘তোরা মমতাকে ভোট দিস’—বলেই বেধড়ক মার। গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। এমনই অভিযোগ করছেন, রঘুনাথগঞ্জের কুলগাছি বটতলার বাসিন্দা ফারুক শেখ।
বিহারের ভাগলপুরের একদল দুষ্কৃতী বাংলাদেশি তকমা দিয়ে নির্যাতন চালাল। কোনওরকমে বেঁচে ফিরেছেন বাঙালি ফেরিওয়ালা ফারুক। জানা গিয়েছে, ক’দিন আগে বিহারে ফেরি করতে গিয়েছিলেন ফারুক। এখনও আতঙ্কিত তিনি।

দোরে দোরে ফেরি করে সংসার চালান ফারুক। আক্রান্ত হয়ে তিনি বলেছেন, ভিক্ষা করবেন তবু ভালো, আর ভিনরাজ্যে কাজে যাবেন না। ফেরি করতে ভাগলপুরে গিয়েছিলেন তিনি। ফারুকের অভিযোগ, বিজেপির লোকজনই তাঁকে মেরেছে। দুষ্কৃতীরা বলেছে, ‘তোরা মমতাকে ভোট দিস। বিজেপিকে ভোট দিস না।’ মোদীর ছবি হাতে নিয়ে তাঁকে মেরেছে। তাঁর দাড়ি ধরে টানছিল। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ওরা বলছে, বাংলাদেশে মারছিস। এখানে মেরেই ফেলব। ওদের মধ্যে কেউ কেউ বলছিল, বাংলাদেশ থেকে এসেছে, এদের পুড়িয়ে মার। ওই কথা শুনে কোনওরকমে চলে এসেছেন ফারুক।

তিনি বলছিলেন, ‘‘ছোট ছোট তিনটে ছেলে-মেয়ে রয়েছে। না-খাটলে আমার চলবে না। আমাকে যদি মেরে ফেলত, এদের ভিক্ষে করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকত না। আমাকে পরিষ্কার বলছে, আমি বাংলাদেশি। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখালাম। তারপরেও আমাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। আমার মোবাইল কেড়ে নিল। লাথি, ঘুসি মারছিল। কানে এমন মেরেছে যে, আমি এখনও কিছু শুনতে পারছি না।’’

অন্যদিকে, বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে আবারও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হল। বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের শ্রমিক ইজাজ আলিকে হেনস্তার শিকার হতে হল। সাতাশ বছরের ইজাজ আলি গত দু’মাস আগে ওড়িশা গিয়েছিলেন। সম্বলপুরে নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মুর্শিদাবাদে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতেন। অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থা করে। কন্সট্রাকশন সাইটের থাকার ঘরে ঢুকে ইজাজকে বেধড়ক মারধর করে। তাঁর হাত ভেঙে যায় এবং দেহের অন্যান্য জায়গায় চোট লাগে। ইজাজ বলেন, তখন ঘরে বসে রান্না করছিলেন। কয়েকজন সটান ঘরে ঢুকে আধার কার্ড দেখতে চায়। আধার কার্ড দেখানোর পরে মারধর করে। জয় শ্রীরাম বলতে নির্দেশ দেয়। বেধড়ক মারধর শুরু করে দেয়। গায়ের গরম জলও ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ। ওড়িশা থানায় গিয়েও লাভ হয়নি। অভিযোগ, কেউ কোনও সাহায্য করেনি। আতঙ্কে ফিরে এসেছেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না ইজাজ। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে। কাজ হারিয়ে এখন তিনি বাড়িতে ভাঙা হাত নিয়ে বসে রয়েছেন।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen