‘BJP-র বাবুদের ইন্ধনেই বেলডাঙার ঘটনা’, তোপ অভিষেকের! মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু করলেন হেল্পলাইন
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:০০: রোড শো শেষে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি। নাম না-করে হুমায়ুন কবীরকেও আক্রমণ শানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেক বলেন, ‘‘সভায় আসার আগে বেলডাঙায় অশান্তির খবর পাই। দলের তরফে সভা না-করার কথা বলা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম যে ঘটনাটি ঘটছে এর ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপির বাবুরা। এই মাটিতে আর একজন গদ্দার তৈরি হচ্ছে। বহরমপুরে সভা করতে না-আসলে গদ্দারদের অক্সিজেন দেওয়া হত। খোঁজ নিয়ে দেখলাম এই ঘটনার পিছনে তাঁদের প্রত্যক্ষ মদত এবং ইন্ধন রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত দু’দিন ধরে বেলডাঙায় বিক্ষোভ চলছে। ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ও বিহারে আর এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে বেলডাঙা। এই আবহেই শনিবার বহরমপুরে রোড শোর পর সভায় বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)।
নাম না-করে নিজের দলের নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন অভিষেক। অভিষেকের মতে বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তির নেপথ্যে আছে বিজেপির মদতপুষ্ট এক ‘নতুন গদ্দার’। অভিষেকের কথায়, “বাংলায় নতুন এক গদ্দার তৈরি হয়েছে। বিজেপির বাবুদের ইন্ধন আর মদতেই বেলডাঙায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” অভিষেকের আর্জি, কেউ যেন কোনও উস্কানিতে পা না দেন। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাঁর আহ্বান, ‘‘ধর্মে ধর্মে বিভাজন ঘটিয়ে যারা অশান্তি ছড়াতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।’’
গত দু’দিন ধরে বেলডাঙায় যা ঘটছে, তার পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন বলেও জানান অভিষেক। অভিষেক বলেন, “সকাল থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির বাবুদের মদত রয়েছে এবং এই মাটিতে এক নতুন গদ্দার তৈরি হয়েছে। আমি আজ না এলে ওই গদ্দারদের আরও অক্সিজেন দেওয়া হত।”
বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে আক্রমণ করেন অভিষেক। পাশাপাশি নাম না-করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, “একজন গদ্দার, একজন মীরজাফর আর একজন বিজেপির ডামি ক্যান্ডিডেটকে আপনারা বিদায় দিয়েছেন। এবার এই নতুন গদ্দারকেও হারাতে হবে।” তাঁর দাবি, ধর্মে ধর্মে যুদ্ধ লাগিয়ে যাঁরা মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে চায়, তাঁদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে এক হতে হবে। মুর্শিদাবাদ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৫০-র বেশি আসন পাওয়া থেকে কেউ রুখতে পারবে না।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিষেক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন। শনিবার অভিষেক জানান, তিনি আলাউদ্দিনের বাড়িও যাবেন। পরিবারকে সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেবেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ইতিমধ্যেই পরিবারকে ২ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্যায় পড়লেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করার কথা জানান তিনি। জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বর দিয়েছেন তিনি। নম্বর দু’টি হল, ৭৪৩০০০০০৩০ এবং ৯১৪৭৮৮৮৩৮। অভিষেক জানান, নম্বর দু’টি জেলা প্রশাসনের। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা শুনে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
বহরমপুর থেকে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরোধিতা করে মোদীকে নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পদ্ম পার্টির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘রাস্তায় বেরিয়ে জলতেষ্টা পেলে যে জল কিনে খান, জানতে চান সেই দোকান হিন্দু না মুসলমান? বাড়িতে আগুন লাগলে যে দমকল বাহিনী আসে, আগুন নিভিয়ে দেয়, জানতে চেয়েছেন তাঁরা হিন্দু না মুসলিম? আজ যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালিগালাজ করে গেলেন, সেই মঞ্চটা কে বানিয়েছে? হিন্দু না মুসলিম?”