“জেল যাত্রা বাঁচাতে অমিত শাহের পা ধরেছেন”, মেদিনীপুরে নাম না করে শুভেন্দুকে তোপ অভিষেকের

January 16, 2026 | 6 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৪০: পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘রণং দেহি’ রূপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।এই সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতেই বিজেপির শরণাপন্ন হয়েছেন ওই ‘গদ্দার’।

এদিন মেদিনীপুরের সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “এই মেদিনীপুরের মাটি বীরেদের মাটি, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাটি। দীনেশ গুপ্ত, প্রদ্যোৎ কুমার ভট্টাচার্য, অনাথবন্ধু পাঁজরা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত এবং রামকৃষ্ণ বিশ্বাস- এই ৫ জন ছাত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ নিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন।” এরপরেই সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “আর একজন গদ্দার নিজের জেল যাত্রা বাঁচানোর জন্য অমিত শাহের পা ধরে বিজেপিতে অংশ নিয়েছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করলেও অভিষেকের নিশানায় যে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন, তা এই মন্তব্যে পরিষ্কার।

বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমকেও এদিন একহাত নেন অভিষেক। তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে মেদিনীপুরের মানুষই সিপিএমের সন্ত্রাসকে রুখে দিয়েছিল। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করে তাঁর আহ্বান, “সব হার্মাদদের মেদিনীপুর থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে হবে।”

আগামী নির্বাচনের লক্ষ্যমাত্রাও এদিন স্থির করে দেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। গত নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৫টার মধ্যে ১৩টা আসনে জিতলেও খড়গপুর ও ঘাটালে অল্প কিছু ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। এবার অঙ্গীকার নিতে হবে, ফলাফল ১৫-০ তৃণমূলের পক্ষে করতে হবে।” মেদিনীপুরের মাটি থেকে সব বিরোধীদের উৎখাত করার ডাক দিয়ে কার্যত ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সভার শুরুতেই মেদিনীপুরের মানুষের লড়াইকে কুর্নিশ জানান অভিষেক। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালের আগে সুশান্ত ঘোষদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এই জেলার মানুষই প্রথম রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে জিতেছিল তৃণমূল। তবে এবার অভিষেকের লক্ষ্য আরও কঠিন। তিনি বলেন, ‘‘এবার অঙ্গীকার নিতে হবে ১২-৩ নয়, ১৫-০ করতে হবে তৃণমূলের পক্ষে। যে কটা হার্মাদ বাকি আছে, সব ক’টাকে বিদায় দিতে হবে।’’

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অতীত টেনে অভিষেক অভিযোগ করেন, যারা একসময় সিপিএমের হয়ে সন্ত্রাস চালাত, তারাই এখন বিজেপির ঝাণ্ডা ধরেছে। নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘শালবনিতে সুশান্ত ঘোষের লোক দেবাশিস রায় এখন বিজেপির বুথ সভাপতি। কেশপুরের তন্ময় ঘোষ বা বেনাচাপড়া হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত তড়িৎ খাটুয়ারা এখন বিজেপি নেতা। মেদিনীপুরে এটাই বিজেপির আসল চেহারা- নিচে হার্মাদ আর উপরে গদ্দার।’’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কোনো বুথে বিজেপি লিড পাওয়া মানেই এই হার্মাদদের অক্সিজেন দেওয়া।

শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে অভিষেক বলেন, ‘‘২০২০ সালে এই মাঠেই এক গদ্দার নিজের জেলযাত্রা বাঁচাতে অমিত শাহের পা ছুঁয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।’’ পাশাপাশি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে অমিত শাহকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগর না থাকলে মোদী-শাহরা আজ নিজের নাম লিখতে পারতেন না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও আপনাদের সুশান্ত ঘোষের বন্দুকের নলের নিচে বাস করতে হতো।’’

ভোটের মুখে ইডি বা নির্বাচন কমিশনকে (EC) ব্যবহার করে বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বাঁকুড়ায় ফর্ম-৭ সহ গাড়ি ধরা পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি নেতারা ইআরও-র কাছে গিয়ে তৃণমূল ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা করছে। আমরা তা রুখে দিয়েছি।’’

শেষে সরাসরি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপির কোনো নেতার ক্ষমতা থাকলে তথ্য নিয়ে লড়াইয়ে বসুন। সময় আর সংবাদমাধ্যম আপনারা বেছে নিন, আমি একা থাকব। যদি ভোকাট্টা না করতে পারি, তবে আর মুখ দেখাব না।’’ তাঁর দাবি, বিজেপি জিতলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অভিষেক বলেন, ‘‘১০টির বেশি কোনও ফর্ম বৈধভাবে জমা দেওয়া যায় না। যদি কোনো বিজেপি নেতা ভাবে শেষ মুহূর্তে জালিয়াতি করবে, তবে তা হতে দেওয়া হবে না।’’ উল্লেখ্য, ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৯ তারিখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বুথ স্তরের কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘মন দিয়ে শোনো, যদি কোনো বিজেপি নেতা ইআরও (ERO) দপ্তরে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে আসে, তবে ভদ্রভাবে তাঁদের রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে শুনিয়ে দিয়ো।’’ অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক পথেই বিজেপি নেতাদের এই ‘চক্রান্ত’ রুখে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাঙ্গা করেন তিনি।

। জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দ্রকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি এই জেলার জন্য কী করেছে? এদের রেখে দিলে আলসার, আর বাড়তে দিলে ক্যানসার। আমি এই জেলার মানুষকে স্যালুট জানাই।’’ ভোটার তালিকায় নাম তোলা প্রসঙ্গে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি ঘোষণা করেন, সাধারণ মানুষ ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করলে তৃণমূল তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নাম তুলতে সাহায্য করবে, যা আটকানোর ক্ষমতা কারও নেই।

 এদিন মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় দাবি করেন অভিষেক। তিনি জানান, মেদিনীপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জন্য দলের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম টেনে তিনি বলেন, ‘‘অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ আমার অফিসে এসেছিল, আমি নিইনি।’’

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, মোদী সরকার রাস্তা, জল ও আবাস যোজনার টাকা আটকে দিলেও বাংলা মাথা নোয়াবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ির টাকা দেবে। মোদী দিন বা না দিন, মেদিনীপুরের মানুষ কারও দয়ায় বেঁচে নেই।’’ পাশাপাশি মহিলাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তত দিন কারও সাধ্য নেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করার।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘদিনের টালবাহানার জন্য সরাসরি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেদিনীপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘১২ বছর বিজেপির সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু ঘাটাল বা খড়্গপুরের জন্য তারা এক পয়সাও দেয়নি। সাংসদ দেব সংসদে বারবার দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’’

অভিষেক এদিন ঘাটালে দেওয়া তাঁর গত বছরের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘আমি কথা দিয়েছিলাম মাস্টার প্ল্যান হবেই। আমাদের সরকার ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ২০২৫ সাল থেকেই কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। মোদী সরকার কিছুই করেনি, তাঁদের কাছে আমরা আশাও করি না।’’

 ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্গত ড্রেজিং এবং সুইস গেট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিজেপি ভুল বোঝাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল যা কথা দেয়, তা রাখে। যারা আমাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের উন্নয়ন শিখতে হবে না।’’

উদ্বাস্তু ভোটারদের হেনস্থা নিয়ে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘ঘাসপাড়ায় ২০০-র বেশি পরিবার রয়েছে যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। বর্তমানে এসআইআর (SIR) চলাকালীন ক’জন বিজেপি নেতা তাঁদের খোঁজ নিয়েছে?’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কেবল বিভাজনের রাজনীতি জানে, সাধারণ মানুষের বিপদে তাঁদের পাশে থাকে না।

মেদিনীপুরের সভা থেকে ভোটার তালিকায় নাম বিভ্রাট এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবেদনের বাকি অংশটি নিচে দেওয়া হলো:

 ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেদিনীপুরের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারদের নির্দেশে সচেতনভাবে তৃণমূল ভোটারদের ‘মৃত’ দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

নিজের অভিযোগের প্রমাণ দিতে এদিন সভায় তিন ব্যক্তিকে হাজির করান অভিষেক, যাঁদের নথিতে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি গর্জে উঠে বলেন, ‘‘আজকের সভাতেও তিন জনকে হাজির করিয়েছি। জীবিত লোককে মৃত দেখিয়েছে কমিশন। আরও এক জনকে আনতাম, কিন্তু তিনি গর্ভবতী হওয়ায় আসতে পারেননি। কমিশন এখন ভাবছে অভিষেক কোথা থেকে এদের খুঁজে পাচ্ছে!’’ তিনি আরও যোগ করেন, ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র বিদ্রুপ করে অভিষেক বলেন, ‘‘জ্ঞানেশবাবুর জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প চালু করতে হবে- ‘ছানিশ্রী’। ওনার চোখের ছানি কাটাতে হবে।’’ বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি পুনরায় বলেন, ১২ বছর ক্ষমতায় থেকেও বিজেপি মেদিনীপুরের জন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত করেনি। তাঁর কথায়, ‘‘এদের রেখে দিলে আলসার, আর বাড়তে দিলে ক্যানসার। মেদিনীপুরের মানুষকে বঞ্চনার যোগ্য জবাব দিতে হবে।’’

ভোটাধিকার রক্ষায় কর্মীদের কড়া দাওয়াই দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আগে টাকা আটকেছিল, এখন ভোটাধিকার কাড়ছে। যদি দেখেন কোনো বিজেপি নেতা আইন বহির্ভূতভাবে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করছে, তবে বড়-ছোট সব নেতার বাড়ি ঘেরাও করুন। আমাকে ডাকবেন, আমি নিজে গিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব।’’

কাঁথি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই যুবককে ‘বাংলাদেশি’ দেগে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘‘৭০-৮০ বছর পর বাঙালিকে আর লাইনে দাঁড়িয়ে পরিচয় দিতে হবে না। এই মাটি ব্রিটিশকে তাড়িয়েছিল, মোদী-শাহ কোন ছাড়!’’

অভিষেক স্পষ্ট জানান, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, বাংলায় এনআরসি হবে না। বিজেপিকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ইউপি-তে ৪ কোটি আর গুজরাতে ৮০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাহলে রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিরা কোথায় থাকে? এদের তো তোমরাই ঢুকিয়েছ।’’ নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিএলও-দের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার ফলে ৮৩ জন এসআইআর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন।

এদিন ফের দলবদল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি করেন অভিষেক। তিনি জানান, মেদিনীপুরের আরও দুই বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্থানীয় কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে তিনি দরজা খোলেননি। শীতলকপাটের মতো নেতাদের ‘সিপিএমের হার্মাদ ও বিজেপির জল্লাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এরা তৃণমূলের সম্পদ হবে না। হিরণ আমার দপ্তরে অজিত মাইতির সঙ্গে এসেছিল, আমি নিইনি।’’

মেদিনীপুরের বিপ্লবী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে অভিষেক বলেন, ১৯১১ সালে লর্ড কার্জন যেভাবে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল, বিজেপিকেও সেভাবে বিদায় নিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আবাস ও জলের টাকা বন্ধ করে যারা বাংলার মানুষকে জব্দ করতে চাইছে, এবার ব্যালট বক্সে তাদের জব্দ করার পালা।’’ তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, প্রতিটি বুথ রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাম আমলের সন্ত্রাস মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘যদি আমরা বদলার রাজনীতি করতাম, তবে আজ তপন ঘোষ বা সুকুর আলিদের ভাষণ দেওয়ার সুযোগ থাকত না। বেনাচাপড়া বা ছোট আঙারিয়ার হত্যাকারীরা খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই খুনের সংস্কৃতি বন্ধ করেছেন, জঙ্গলমহলে শান্তি এনেছেন।’’

সবশেষে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৯টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূলকে জেতানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এটা কেবল ভোট নয়, এটা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং মেদিনীপুরকে হার্মাদমুক্ত করার লড়াই।’’

সবশেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে ‘বিজেপি-মুক্ত’ করার ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, জেলার সবকটি অর্থাৎ ১৫-০ আসনে তৃণমূলকে জয়ী করে হার্মাদদের বিদায় দিতে হবে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen