পুজোর আগে ভারতে ইলিশ উপহার, তবে সৌজন্য-রপ্তানিতে কাটছাঁট বাংলাদেশের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে, এ বছর ভারতে ১,২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় অর্ধেক

September 8, 2025 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: ১৭:৫০: দুর্গাপুজোর আনন্দে এবারও যোগ হতে চলেছে ওপার বাংলার পদ্মার ইলিশ। সোমবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে, এ বছর ভারতে (India) ১,২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় অর্ধেক, তবু উৎসবের মরসুমে এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহল।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি কেজি ইলিশ (hilsa) ন্যূনতম সাড়ে ১২ ডলারে রপ্তানি করা যাবে। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এই ঘোষণার পরেই পশ্চিমবঙ্গের বাজারে উৎসবের আমেজ আরও জোরদার হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশে (Bangladesh) ইলিশ উৎপাদন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশের দাম চড়া, যার ফলে মৎস্যজীবীদের মাথায় হাত। ২০২৪ সালে দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশ প্রথমে ৩,০০০ টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা কমিয়ে ২,৪২০ টনে নামিয়ে আনে। এবার সেই পরিমাণ আরও কমিয়ে ১,২০০ টন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এর আগেও ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য আম পাঠিয়েছে। শেখ হাসিনার সময় শুরু হওয়া ‘আম-ইলিশ কূটনীতি’ ইউনূস প্রশাসনও বজায় রেখেছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন দিল্লির হাইকমিশনারের পরামর্শে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জাতীয় রপ্তানি নীতিতে শর্তসাপেক্ষে ইলিশকে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে প্রথমবার দুর্গাপুজোর সময় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ২০২১ পর্যন্ত এই রীতি বজায় ছিল। যদিও শেখ হাসিনার সরকার পরে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবু উৎসবের মরসুমে রপ্তানি চালু থাকে।

গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর ইলিশ রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইউনূস সরকার প্রথমে রপ্তানি বন্ধ রাখার কথা জানায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়, ইলিশের মতো ‘ক্ষুদ্র ইস্যু’ দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen