BJP-র সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘোষণা হুমায়ুনের, তবে কি ঝুলি থেকে বিড়াল বের হল?

January 23, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:৩৭: নিলম্বিত তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুনের ঝুলি থেকে এতদিনে বিড়াল বের হল। সাফ কথায়, তিনি যে বিজেপির সঙ্গী তা তিনি নিজেই প্রমাণ করলেন। জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর এখন দোরে দোরে ঘুরছেন, জোটের ডাক দিচ্ছেন। ভোট ঘোষণার আগেই ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ্যে তিনি দাবি করলেন, বিজেপির সমর্থন নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এহেন দাবিতেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছে বিজেপির বি-টিম হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, শাসক দলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে কিঞ্চিৎ ফাটল ধরিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়াই হুমায়ুনের লক্ষ্য। পরোক্ষে পদ্ম পার্টির সঙ্গে জোট স্বীকার করেন হুমায়ুন কার্যত সে মতকেই প্রতিষ্ঠা করলেন। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে নিজের অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেন, “ভোটে আমিই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হব। বিধানসভা নির্বাচনের পর আমিই মুখ্যমন্ত্রী হব। খেটেখুটে, পরিশ্রম করে একটা দল গড়ে আমি ভোটে লড়ছি। মানুষ ভরসা করে আমাকে ভোট দেবে, ১০০ থেকে ১১০ আসনে আমি জিতব। একক বৃহত্তম দল আমার পার্টিই হবে। আর বিজেপি যদি ৯৯ আসন পায় তাহলে আমাকে তাদের মুখ্যমন্ত্রী মেনে নিতে হবে। সরকার গড়তে বিজেপির সমর্থন নিতে আমার আপত্তি নেই।”

নীতীশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে নিজের দাবির পক্ষে সওয়াল করেছেন হুমায়ুন। তিনি বলেছেন, “বিহারে নীতীশ কুমার তো দু’-দু’বার কম আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। অন্য কেউ ৯৯ পেলেও আমাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে হবে। ভোটের পর দেখবেন রাজ্যপালের কাছে আমিই ১৪৮ আসনের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানাতে যাব।” হুমায়ুনের দাবি, “খুব বেশি হলে ৭০ থেকে ৭৫টি সিট পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের পর সরকার আমিই গড়ব, মুখ্যমন্ত্রী আমিই হচ্ছি। তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। ভোটের পর যে কেউ যোগ দিতে পারে।”

উল্লেখ্য, বার বার দল বদলের ইতিহাস রয়েছে হুমায়ুনের। ২০১৯-র লোকসভা তিনি বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েওছিলেন। বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করেই যে তিনি নতুন দল গড়েছে তা এক প্রকার প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। হুমায়ুনের বক্তব্য শুনে তৃণমূলের মত, ভরতপুরের বিধায়ক যে বিজেপির হাতের পুতুল এবং গেরুয়া শিবিরের অঙ্গুলিহেলনেই চলছে তা স্পষ্ট হয়ে গেল। তৃণমূলের হুঙ্কার, প্রমাণ হয়ে গেল, বিজেপির বি-টিম হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে নানা দিবাস্বপ্ন দেখছেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen