‘বেঁচে থাকলে নেতাজিকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত?’, দেশনায়কের জন্মদিবসে প্রশ্ন মমতার

January 23, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:০০: আজ ২৩ জানুয়ারি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন উদযাপনের মঞ্চ থেকে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, কলকাতার রেড রোডে নেতাজি স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্যের পক্ষ থেকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন সাংসদ তথা নেতাজির পরিবারের-সন্তান সুগত বসু-সহ বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। নাম না-করে মোদী সরকারকে তোপ দাগলেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, নেতাজিকেও কি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত? পাশাপাশি কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতার তোপ, “দিল্লি চক্রান্তনগরী। বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।”

সুভাষ স্মরণের মঞ্চ থেকে নেতাজির ফাইল প্রকাশ-সহ একাধিক ইস্যুতে সুর চড়ান মমতা। বলেন, “আজ নেতাজির জন্মদিন। এখনও দিনটাকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তিনি দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। আমরা তাঁর জন্মদিনটা জানি। মৃত্যুদিনটা বলতে পারি না।”

SIR নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ, নেতাজি বেঁচে থাকলে কি তাঁকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত? হিয়ারিংয়ে তাঁকেও ডাকা হত?” তিনি আরও বলেন, “চন্দ্রকেও (নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু) তো ডেকেছে।”

এরপরই মমতা বলেন, “বাংলার ১ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষকে ডেকেছে। তার আগে একতরফা ভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। মোট সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি। ৭ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি বাদ গেলে কত বাকি থাকে?” SIR-কে কেন্দ্র করে বাংলা একাধিক মানুষের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন মমতা। শুনানিতে আমজনতার হেনস্থা নিয়েও ক্ষুব্ধ মমতার বক্তব্যে ঝরে পড়েছে ক্ষোভ।

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মোদী সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাকে বঞ্চিত, উপেক্ষিত করছে বলেও অভিযোগ শানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রেড রোডের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে এই ইস্যুতে ফের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, বিজেপি সরকার দেশের ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, দেশ তথা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। মমতা বলেন, “দেশের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধী, লাল বাল পাল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যদের প্রতি অসহিষ্ণু, অকৃতজ্ঞতা করা হচ্ছে। ভাষার প্রতি অসম্মান করা হচ্ছে। বাংলার অস্মিতাকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen