এবার আপনার পোশাক, মেডিক্যাল, হোটেল বিলে নজরদারি চালাবে আয়কর দপ্তর
এবার এই সাধারণ মধ্যবিত্তদের উপর নজরদারি চালাতে নয়া পন্থা নিয়েছে আয়কর দপ্তর।
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: একটা সময় ছিল, যখন আয়কর দপ্তরের ভাঁড়ার ভরত মূলত কর্পোরেট সংস্থাগুলি থেকে আদায় করা ট্যাক্সে। কিন্তু সেইদিন শেষ। এখন শিল্পমহলের দেওয়া ইনকাম ট্যাক্সের সঙ্গে প্রায় সমানে টেক্কা দিচ্ছে আম জনতার ব্যক্তিগত আয়কর। কর্পোরেট বা সোজা কথায় ব্যবসায়ীদের নানা ফিকির থাকতে পারে, চাকরিজীবীদের সাধারণত পালানোর পথ থাকে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকার মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের টার্গেট করতেই বেশি সাবলীল।
এবার এই সাধারণ মধ্যবিত্তদের উপর নজরদারি চালাতে নয়া পন্থা নিয়েছে আয়কর দপ্তর। যাঁরা নামী ব্র্যান্ডের পোশাক পরেন, তাঁরা কোথা থেকে টাকা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখতে পারেন দপ্তরের কর্তারা। একইভাবে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের হোটেল বুকিং, ব্যাঙ্কোয়েট ভাড়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের মোটা অঙ্কের বিল মেটানোর দিকেও। বাদ যাবে না আইভিএফ সেন্টারও। এই সেন্টারগুলির চিকিৎসা পরিষেবা নিতে মোটা টাকা দরকার। সেই টাকা কোথা থেকে আসছে, তা এবার চাইলেই সরেজমিনে যাচাই করতে পারেন আয়কর দপ্তরের কর্তারা।
গত অর্থবর্ষে (২০২২-২৩) কলকাতা জোন থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় ৫৬,৪২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্পোরেট ট্যাক্স বা শিল্প সংস্থা থেকে আদায়ের অঙ্ক প্রায় ২৯,৯৩০ কোটি টাকা। বাদবাকি ব্যক্তিগত কর বাবদ। গত কয়েক বছর ধরেই আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্য (১৮ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকা) এবারও পূরণ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আয়কর আদায়ের এমন নিশ্চয়তার পর দপ্তর আর কোনওরকম ফাঁকফোকর রাখতে রাজি নয়। আরও বেশি নাগরিককে আয়করের আওতায় আনার জন্যই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছে দপ্তর। সেখানেই তারা জানিয়েছে, নগদ অঙ্কের সমস্ত বড় লেনদেন খতিয়ে দেখা জরুরি।