‘বিচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে’ ঋতিকার দাবিতেই কি হিরণের প্রথম স্ত্রীর অভিযোগে সিলমোহর?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:১৭: বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের (Hiran Chatterjee) দ্বিতীয় বিবাহ নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। বরং প্রথমার পর দ্বিতীয় স্ত্রী মুখ খোলার পর সেই বিতর্কের আগুনেই যেন ঘি পড়ল। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। বুধবার সমাজমাধ্যমে হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি (ritika giri) সাফাই দিতে গিয়ে যা লিখলেন, তাতে পরোক্ষভাবে অনিন্দিতার ওই দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হলো বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মঙ্গলবার বারাণসীর ঘাটে হিরণ ও ঋতিকার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই তোলপাড় শুরু হয়। তখনই অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, “এই বিয়ে বেআইনি। আমার সঙ্গে ওর বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।” সেই অভিযোগের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বুধবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋতিকা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “অনিন্দিতাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিস আগেই পাঠানো হয়েছে।”
তবে ঋতিকার এই মন্তব্যেই লুকিয়ে রয়েছে আইনি প্যাঁচ। তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি যে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে বা আদালতের ডিক্রি মিলেছে। তিনি শুধুমাত্র ‘নোটিস’ পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। আর এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজ্ঞরা। কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অতনু রায়চৌধুরীর মতে, “স্ত্রী বা স্বামীকে বিচ্ছেদের নোটিস পাঠানো মানেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া নয়। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী আদালতে মামলা করতে হয় এবং বিচারপতির সিলমোহর পড়লে তবেই বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে আইনত সিদ্ধ নয়।”
ফলে ঋতিকা নিজেদের বিয়েকে ‘বৈধ’ দাবি করলেও, আইনি ব্যাখ্যায় তা প্রশ্নের মুখেই দাঁড়িয়ে গেল। অন্যদিকে, ঋতিকা তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, গত ৫ বছর ধরে তিনি হিরণের সঙ্গে আছেন এবং এই বিয়ের বিষয়টি অনিন্দিতা জানতেন। তিনি লেখেন, “আমার অ্যাকাউন্ট পাবলিক ছিল। এত বছর উনি কোথায় ছিলেন? কেন তখন প্রশ্ন তোলেননি?” বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা এবং সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কথাও উল্লেখ করেন ঋতিকা।
যদিও ঋতিকার এই দাবির সঙ্গে মিলছে না অনিন্দিতার পূর্বের বয়ান। অনিন্দিতা জানিয়েছিলেন, তিনি সম্পর্কের কানাঘুষো শুনলেও হিরণ তাঁকে বলেছিলেন যে ওই মহিলা (ঋতিকা) তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছেন। অনিন্দিতার কথায়, “হিরণ এই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করত। মেয়ের সঙ্গে দেখা করত। এমনকি ২০২৫ সালের নতুন বছরের উদ্যাপনও আমরা একসঙ্গেই করেছিলাম।”
