তৃণমূল বলেই কি টার্গেট? দেব-জাকির হোসেনের পর এবার SIR নোটিস বাপি হালদার ও বায়রন বিশ্বাসকে

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:০০: তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করা কি এবার বিজেপির নতুন কৌশল? দেব, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেনের পর এবার SIR শুনানির নোটিস পেলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার (Bapi Halder) এবং সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস (Bayron Biswas)। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে শাসকদলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের (TMC) অভিযোগ, নিছকই তথ্য যাচাই নয়, বরং বিজেপি (BJP) ও কমিশনের যৌথ চক্রান্তে সংখ্যালঘু এবং তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষকে বেছে বেছে হেনস্থা করা হচ্ছে।
মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার রায়দিঘি বিধানসভার ৬২ সৌদিয়াল এফপি স্কুলের ভোটার। তাঁকে আগামী ২৮ জানুয়ারি, অর্থাৎ সংসদে বাজেট অধিবেশনের শুরুর দিনেই শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। সাংসদকে দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটের মধ্যে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিসে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সাংসদ এবং তাঁর বাবার পদবির অমিল।
বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে শুনানির দিন ধার্য করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাংসদ বাপি হালদার। তিনি বলেন, “বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে শুনানিতে ডেকে হয়রান করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।” তিনি শুনানির দিন পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, “এসআইআর-এর নাম করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মূলত সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের হেনস্থা করার ছক কষেছে। আমি তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত বলেই অযৌক্তিকভাবে আমাকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভা এলাকার ভোটার বায়রন। শনিবার সন্ধ্যায় বিএলও (BLO) সরাসরি বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে শুনানির নোটিস তুলে দেন। তাঁকে আগামী ২৪ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটে নাগাদ শুনানির জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মাত্র দু’দিন আগেই মুর্শিদাবাদের আরেক বিধায়ক জাকির হোসেনকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এবার জেলার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান বায়রন বিশ্বাসকে নোটিস পাঠানোয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নোটিস পেয়ে অত্যন্ত বিরক্ত বায়রন বলেন, “আমার প্রয়াত বাবা এই জেলার অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিলেন। গোটা রাজ্যে আমাদের পরিচিতি রয়েছে এবং আমরা বহু বছর ধরে এই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তা সত্ত্বেও আমাকে এসআইআরে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে, যা অপমানজনক।”
গোটা প্রক্রিয়াটিকে বিজেপির গভীর চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন সাগরদিঘির বিধায়ক। তাঁর কথায়, “এসআইআর শুরুর আগেই বিজেপি ঘোষণা করেছিল যে তারা দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবে। নির্বাচন কমিশন এখন ছলে-বলে-কৌশলে সেই দাবিকেই মান্যতা দিতে চাইছে এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।” সাধারণ মানুষের হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একজন বিধায়ক হিসেবে আমার সঙ্গেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী করা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা এই অনৈতিক এসআইআর মানছি না।”