কলকাতার একমাত্র পার্সি মন্দিরের ইতিহাস জানেন?

কলকাতার কয়েকশো পার্সি-র ধর্মকর্মের সবেধন নীলমণি মন্দিরটির নিত্য যত্নের অভাব হয় না।

December 17, 2023 | < 1 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: বৌবাজারের ট্রাম রাস্তার ধারে চশমার দোকানের গলতা ধরলে দু’-দশ পা। তাই একটু বেড়িয়ে ঘুরপথ ধরা যাক!

মধ্য কলকাতায় লালবাজারের উল্টো দিকে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট লাগোয়া গ্র্যান্ট লেন ধরে এঁকেবেঁকে আসুন। আরও ভাল হয়, মিশন রো মানে গণেশ অ্যাভিনিউয়ের সাবেক চিনে রেস্তোরাঁর উল্টো ফুটের গলিটা ধরলে।এই  গণেশ অ্যাভিনিউ লাগোয়া ঘিঞ্জি নোংরা গলিপথটাই মেটকাফ স্ট্রিট। আঁকাবাঁকা সড়কের শেষটাই বৌবাজারের ট্রাম রাস্তায় মিলেছে। একেবারে শেষ প্রান্তে কলকাতার পার্সি মন্দির বা এলাকার লোকের ভাষায় ‘পার্সি গির্জা’!

৯১ নম্বর মেটকাফ স্ট্রিটে জরাথ্রুষ্টবাদীদের উপাস্য অগ্নিদেবতা সদা জাগ্রত। অগস্টে পার্সিদের নববর্ষ, মার্চের বসন্ত উৎসব-টবে সামান্য ভিড়। বিক্ষিপ্ত পারিবারিক আচার ছাড়া মন্দিরের অছি নিযুক্ত গুটিকয়েক কর্মী, পার্সিদের পূজারী বিশেষ ধরনের টুপিধারী মোবেড বা দস্তুরদের শুধু দেখা মিলবে।

কলকাতার কয়েকশো পার্সি-র ধর্মকর্মের সবেধন নীলমণি মন্দিরটির নিত্য যত্নের অভাব হয় না। একতলার উঠোনে প্রহরী কলকাতার এক শতকের সাক্ষী বিলিতি ঠাকুরদা ঘড়ি ও দেওয়ালে খোদাই লম্বা দাড়ি, ডানামেলা জোব্বাধারী এক বুড়ো।

ফারাহভার নাম এক বৃদ্ধই পার্সি ধর্মের ‘গার্ডিয়ান এঞ্জেল’! যিশুর দেড়-দু’হাজার বছর আগের সুপ্রাচীন সভ্যতার স্মৃতি এখানে মিশেছে কলকাতার মন্দিরে।

দোতলায় উপাসনা কক্ষে সেই ১৯১২ থেকে অক্লান্ত জ্বলছে অগ্নিকুণ্ড। আগুনের সামনে অবশ্য ভিন-ধর্মী কারও যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে বাইরে ঘষা কাচের অপরূপ নকশায় চোখ জুড়িয়ে যায়। রঙিন ঘষা কাচেই দৃশ্যমান সৃষ্টিকর্তা আহুরা মাজদা, প্রফেট জরাথ্রুষ্ট, পশুপাখি, উদ্ভিদকুল, আকাশ, মাটি ইত্যাদির প্রতিনিধি এক-একটি দিব্যমূর্তি। মুম্বইয়ে গোটা ৫০ অগ্নিদেবতার মন্দির থাকলেও কলকাতায় এই একটিই।

পশ্চিম ভারত থেকে কলকাতায় ভাগ্যের খোঁজে আসা পার্সিদের এক সময়ে ‘বেঙ্গলি’ পদবী নেওয়া রেওয়াজ ছিল। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ধুনজীভাই বেহরামজী মেটা ও তস্যপুত্র রুস্তমজী ধুনজীভাই বেহরামজী মেটা উনিশ শতক ও বিশ শতকের গোড়ার দিকের কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তার আগে এজরা স্ট্রিটে ছোটখাটো বা অস্থায়ী মন্দির ছিল অগ্নিদেবতার।

ভাষ্য পাঠ: মধুরিমা রায়
সম্পাদনা: মোঃ রবিউল ইসলাম
তথ্য গবেষণা: অরূপ রতন চক্রবর্তী

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen