SIR-র নামে মানুষের অধিকার কাড়ার চেষ্টা, গঙ্গাসাগর থেকে কমিশন ও কেন্দ্রকে ফের তোপ মমতার

January 5, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:০০: সাগরের মঞ্চ থেকে ফের কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের চেষ্টা হচ্ছে বলে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের ‘অশুভ আঁতাত’র অভিযোগ তোলেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিশন এখন নাকি হোয়াটসঅ্যাপে চলছে! হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নিয়েছে নাকি কে জানে! তবে এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না।” তিনি জানান, আদালতের দ্বারস্থ হবে রাজ্য সরকার। মমতা বলেন, “আগামীকাল কোর্ট খুলবে, আমরা আদালতে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আমিও নিজে সুপ্রিম কোর্টে প্লিড করব।” উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের তিন তারিখ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। চার পাতার সেই চিঠিতেও হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশ নিয়ে সরব হন তিনি। এ যাবৎ গত তিন মাস জ্ঞানেশ কুমারকে তিনটি চিঠি লিখলেন মমতা।

SIR প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গায়ের জোরে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু ও আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। মমতার প্রশ্ন, “হিয়ারিংয়ের নামে মানুষের হেনস্থা করা হচ্ছে। আপনার মাকে যদি ৮৫ বছর বয়সে টেনে নিয়ে যায়, কী উত্তর দিতেন?” বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “এখানে (বাংলায়) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। মনে রেখো বন্ধু এখানে তুমি কামড়াতে এলে এমন কামড় খাবে, মাথাটাকে টাইট করে দেবে, কোমরটাকেও টাইট করে দেবে।” নাম না করে কমিশনের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন”।

পাশাপাশি বিজেপির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের হুঁশিয়ারি নিয়েও এদিন সরব হন তিনি। মমতার অভিযোগ করেন, “দিল্লির এক বড় নেতা বলেছেন, লক্ষ্মীদের ভোটের দিন বেরোতে দেবেন না। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়? আমি বলি; তুমি বাংলার লক্ষ্মীদের চেনো না। আঘাত করলে পাল্টা প্রত্যাঘাত হবে।” সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা, “ভোটের মুখে বাংলায় অশান্তি পাকানোর ছক হচ্ছে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা হচ্ছে—কোথাও টুক করে গণ্ডগোল করা যায় কি না। একটু কিছু হলেই চিৎকার শুরু করবে! মনে রাখবেন, ওদের অচল করতে হবে। তাই কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।”

এদিন মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি ভোটার তালিকা বা নথিপত্র সংক্রান্ত ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যায় হচ্ছে। শুনলেন তো, ভারতে সুভাষ মহারাজের নামও কেটে দিয়েছে। অনেক মহারাজের নাম বাদ দিয়েছে, সাধুসন্তদের নামও বাদ পড়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অন্যায় করছে।” তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় যদি কেউ কাজ করে এবং প্রভুর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না।

গঙ্গাসাগর মেলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “গঙ্গাসাগর যাওয়া খুব জরুরি, এটা আমার ব্যক্তিগত জীবন নয় বা টাকা দিয়ে মেলা দেখার বিষয় নয়।” এই সফরে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত বা অবান্তর প্রশ্ন না করার জন্যও অনুরোধ জানান মমতা। বিরোধীদের নাম না করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “যারা কোনও কাজ করে না, তারা বেশি কথা বলে আর অকাজ করে বেড়ায়। প্লিজ, তাদের ব্যাপারে আমাকে কোনো প্রশ্ন করবেন না। আমাদের এত কাজ থাকে যে কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে হয়।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen