“আর পারছি না”, সুইসাইড নোট লিখে এবার BJP-শাসিত উত্তরপ্রদেশে আত্মহত্যা ডাক্তারি ছাত্রীর, গ্রেপ্তার দুই অধ্যাপক

সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “আমি আর সহ্য করতে পারছি না। দিনের পর দিন অপমান, মানসিক অত্যাচার চলছে। আর বেঁচে থেকে লাভ নেই।”

July 19, 2025 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১.১৮: হরিয়ানা গুরুগ্রাম থেকে উত্তরপ্রদেশে পড়তে এসেছিলেন তরুণী। নির্বিচারে মানসিক নির্যাতন আর অপমানের বোঝা সহ্য করতে না পেরে জীবন শেষ করলেন এক তরুণী। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। বাড়ি হরিয়ানার গুরুগ্রামে। শুক্রবার রাতে কলেজের হস্টেল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ।

আত্মহত্যার আগে একটি চিঠি লিখে গিয়েছেন ছাত্রীটি। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “আমি আর সহ্য করতে পারছি না। দিনের পর দিন অপমান, মানসিক অত্যাচার চলছে। আর বেঁচে থেকে লাভ নেই।”

হস্টেলে ওই ছাত্রীর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে দুই অধ্যাপককে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, যেভাবে তাঁকে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, ঠিক একই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেন অভিযুক্তরাও যান। তিনি চাইছেন, তাঁর মতো করেই তাঁর উপর নির্যাতন চালানো ব্যক্তিদেরও একদিন সেই একই পরিস্থিতির শিকার হতে হোক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিঠিতে ছাত্রীটি অভিযোগ করেছেন, ওই দুই অধ্যাপক দিনের পর দিন তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও অপমান করেছেন। তাঁদের আচরণের ফলে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। সেই চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, তিনি চান যাঁরা তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন, তাঁরাও যেন ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির শিকার হন। শেষে তিনি লিখেছেন, এই যন্ত্রণা আর সহ্য করা সম্ভব নয়, এই অবস্থায় বেঁচে থাকাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

হস্টেল ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কলেজ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা তদন্তে পুলিশ ও আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। অভিযুক্ত দুই অধ্যাপককে ইতিমধ্যেই কলেজ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছে গ্রেটার নয়ডা পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার পরই কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে সরব হন সহপাঠীরা। তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ফের একবার বিজেপি শাসিত রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক নিরাপত্তা ও হেনস্তা-প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen