সাইবার চক্রে বিপন্ন মোদীর Digital India! ২০২৫-এ আর্থিক প্রতারণায় ক্ষতি ১.২ লক্ষ কোটি
ডেটালিডস (Datalyts) নামক একটি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাইবার অপরাধ যে হারে বেড়েছে তা নজিরবিহীন।
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪.১৫: নামেই ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ (Digital India)। অথচ সেই ডিজিটাল উল্লাসই কী ক্রমে পরিণত হচ্ছে ভয়াবহ আর্থিক দুঃস্বপ্নে? ফিশিং মেসেজ, ভুয়ো কিউআর কোড, ভুয়ো আধার-প্যান কিংবা ভয়ঙ্কর ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’সহ বিভিন্ন ছকে একের পর এক প্রতারণার ঘটনায় চলতি বছরে ভারতবাসীর ক্ষতির অঙ্ক ছাড়াতে পারে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা! এমনই আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)।
ডেটালিডস (Datalyts) নামক একটি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাইবার অপরাধ যে হারে বেড়েছে তা নজিরবিহীন। পরিসংখ্যান বলছে
- ২০২২: সাইবার প্রতারণায় ক্ষতি ২,৩০৬ কোটি টাকা
- ২০২৩: বেড়ে হয় ৭,৪৬৫ কোটি টাকা
- ২০২৪: লাফিয়ে পৌঁছে যায় ২২,৮৪২ কোটি টাকা
- ২০২৫: (সম্ভবত): ১,২০,০০০ কোটি টাকা
এই বিপজ্জনক বৃদ্ধির নেপথ্যে শুধুই প্রযুক্তি নয়, ইন্ধন জুগিয়েছে বাড়তে থাকা শিক্ষিত বেকারত্বও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ শিক্ষিত বেকার। তাদের একটি অংশ প্রতারণাকে ‘সহজ রোজগারের পথ’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিপফেক টেকনোলজি, এবং ডার্ক ওয়েবের মেলবন্ধনে এই অপরাধীরা হয়ে উঠেছে আরও মারাত্মক। ডিপফেকের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে নকল ভিডিও বা অডিও, যা ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছে ব্যাঙ্ক, বিমা, ব্যবসা, এমনকি সাধারণ নাগরিকও।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) ইতিমধ্যেই ২১,৩৬৭ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ গুণ বেশি। ব্যাঙ্কের পরে সবথেকে বেশি জালিয়াতি হচ্ছে বিমা খাতে।
সাইবার অপরাধীদের সবচেয়ে প্রিয় কী সমাজ মাধ্যম? ‘আইফোরসি’ জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসেই শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে ৪৪ হাজার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। তালিকায় আছে টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউবও। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জালিয়াতরা পাঠাচ্ছে ভুয়ো লিঙ্ক, স্ক্যাম কল, বা ভয়ভীতি দেখানো বার্তা।
অবস্থা এতটাই গুরুতর যে কেন্দ্রকে প্রচারে নামতে হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে একাধিক ডিজিটাল প্রচার শুরু হয়েছে। আইনও করা হয়েছে কঠোর, কিন্তু তা সত্ত্বেও অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোখা যাচ্ছে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বেকার যুবসমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবেই কী বাড়ছে সাইবার প্রতারণা? যেখানে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্নে বিপন্ন হতে পারে দেশবাসীর আর্থিক নিরাপত্তা!