ভারতের উপর আরও শুল্ক? ‘বন্ধু’ মোদীকে ইঙ্গিতবাহী হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:৩০: রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি স্বরূপ ভারতের পণ্যের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার চাপানো মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। এবার ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে নয়াদিল্লি। এ নিয়ে ট্রাম্প যে ক্ষুব্ধ, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর আরও দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর ক্ষোভের কারণ জানতেন।
রবিবার প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সওয়ার হয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা (ভারত রাশিয়ার সঙ্গে) বাণিজ্য করছে। আমরা ওদের উপর খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।” হোয়াইট হাউস তরফে প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দিল্লির জ্বালানি ও বাণিজ্য নীতি যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার সঙ্গে না মেলে, তাহলে খুব দ্রুত ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। অডিও ক্লিপে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁকে খুশি রাখতেই নাকি ভারত নিজের অবস্থানে বদল এনেছে। বলেন, ‘ওরা আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল, মোটামুটি সেটাই।’ প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্পর্কে প্রশংসার সুর শোনা গেলেও ট্রাম্পের সাফ কথা, ‘মোদী খুব ভাল মানুষ। ও জানত আমি খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখা ওদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ এরপরই বাণিজ্য নিয়ে হুঁশিয়ারি, “ওরা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করে। আমরা খুব দ্রুত ওদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি, আর সেটা ওদের জন্য খুব খারাপ হবে।”
‘অখুশি’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা না-করলেও মনে করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে নয়া দিল্লির তেল আমদানি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে না-খুশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অক্টোবরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নাকি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন মোদী। তবে ভারতের তরফে সেই সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে নিদান দেওয়া হয়েছে দিল্লিকে। রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে নয়াদিল্লি বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা মাথায় রাখা হবে। ট্রাম্প মনে করেন, তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। তাই যুদ্ধ থামানোর কৌশল হিসাবে রাশিয়ার তেলের ক্রেতা ভারতকে চাপে রাখা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা, এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে চাপ বাড়াল। এখন দেখার দিল্লি কীভাবে চ্যালেঞ্জ সামলায়।